kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৬৮তম বার্ষিকী

বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সিনেট ভবনে কেক কাটা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার অহংকার, এখনই সময় দায় মোচনের’ এই অঙ্গীকার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে বেলুন ওড়ানো, কেক কাটা, আলোচনা সভা, আড্ডা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়।

অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে উপনীত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ফিরিয়ে আনতে গবেষণা, প্রকাশনা ও অনুবাদ সাহিত্যে জোর দিতে হবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ও প্রকাশনা দিয়ে চেনা হলেও সেটি এখন আর হচ্ছে না। গবেষণা বৃদ্ধিতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে অ্যালামনাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একত্রে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে কাজ করতে হবে।

বিকেল ৪টায় সিনেট ভবনের সামনে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১টি বিভাগ ও হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যোগ দেয়। জাতীয়সংগীতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাসোসিয়েশনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেই সময় একটি বিশাল কেকও কাটা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, অধ্যাপক ড. ফরাসউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ, সহসভাপতি শাইখ সিরাজ ও মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করে ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের পদচারণে ক্যাম্পাস প্রাণ ফিরে পায়। সব অ্যালামনাই মিলে যৌথভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ইতিমধ্যে কিছু পরিকল্পনাও করা হয়েছে বলে জেনেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ’

ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ফিরিয়ে আনতে গবেষণা, প্রকাশনা ও অনুবাদে জোর দিতে হবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে চেনা যায় গবেষণা ও প্রকাশনা দিয়ে। কিন্তু সেই চর্চাটি হচ্ছে না বলে প্রচলিত রয়েছে। গবেষণা ও প্রকাশনায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের জ্ঞান আহরণ ও নিজেদের জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে আনুবাদে জোর দিতে হবে। এটা বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ তাঁর বইগুলোকে অনুবাদ না করলে নোবেল পুরস্কার পেতেন না। নিজেদের অর্জন অনুবাদ করতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে। ’

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে উঠছে উল্লেখ করে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে উঠছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে যে পরিমাণ বইয়ের সরবরাহ দরকার, তার কোনো সংস্থান নেই। যদিও কাঁটাবন মার্কেটে বইয়ের দোকান হওয়ার কথা ছিল। হয়নি এখনো।

ইতিহাস সংরক্ষণের প্রস্তাব উত্থাপন করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ইতিহাস বিমুখ হচ্ছি এবং ইতিহাসের ডকুমেন্ট হারিয়ে যাচ্ছে। সংগ্রাম অর্জনের ইতিহাস পাঠ ও রচনা করতে হলে ইতিহাসের লেখা ও ছবি সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু এখন সেটি হয়নি। সেই ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিতে পারে। ব্যক্তিগত অনেক কিছুই আছে যা অকালে হারিয়ে যাবে। এ সময় তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জোর দাবি উত্থাপন করেন।

ফরাসউদ্দিন বলেন, বঙ্গভঙ্গ রদের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার ওপরে। যা কিছু সুন্দর ও ভালোর পক্ষে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তেমনি খারাপ ও মন্দকেও সমর্থন করে না এই বিশ্ববিদ্যালয়।


মন্তব্য