kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তিতাসের তদন্ত প্রতিবেদন

অনুমোদিত মাত্রার দ্বিগুণ গ্যাস ব্যবহার করত টাম্পাকো

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অনুমোদিত মাত্রার দ্বিগুণ গ্যাস ব্যবহার করত টাম্পাকো

টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ছবিটি গতকালের। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার দুর্ঘটনায় তিতাস গ্যাস লিমিটেডের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, গ্যাস সমস্যায় ওই বিস্ফোরণ ঘটেনি।

তবে কারখানায় অনুমোদিত চাহিদার দ্বিগুণ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।

সূত্র জানায়, তদন্তে তিতাসের সরবরাহ লাইনে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। কমিটি সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিধ্বস্ত কারখানা ভবনটি পরিদর্শন করে রেগুলেটিং অ্যান্ড মিটারিং স্টেশনের ছবি তোলে। পরে এসব ছবি, ঘটনাস্থল এবং সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে কমিটি নিশ্চিত হয়, গ্যাস লাইনের  ত্রুটির কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেনি। তাদের ধারণা, কারখানায় প্রচুর কেমিক্যাল রাখা ছিল। যন্ত্রপাতি উত্তপ্ত হয়ে ওই কেমিক্যালের বিস্ফোরণ থেকে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত কমিটি কারখানায় তিতাসের অনুমোদিত চাহিদার দ্বিগুণ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পায়।

জানা গেছে, কারখানায় একটি বয়লারের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১২ হাজার ২৫ ঘনফুট এবং জেনারেটরের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১২ হাজার ৩৬০ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের অনুমোদন ছিল। কিন্তু টাম্পাকোতে একটির স্থলে তিনটি বয়লার ছিল। এ জন্য অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করা হতো।

তদন্ত কমিটির প্রধান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের জিএম (মার্কেটিং) ঢাকা উত্তর প্রকৌশলী রানা কবির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর ১৫ সেপ্টেম্বর তিতাসের এমডি প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমান তিন সদস্যের ওই কমিটি গঠন করেন।

প্রসঙ্গত, টঙ্গীর বিসিক নগরীতে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের মালিকানাধীন টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কারখানার তিনটি ভবন ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৪০ জন আহত ও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।


মন্তব্য