kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজহারের আপিল শুনানি শিগগির

রেজাউল করিম   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আজহারের আপিল শুনানি শিগগির

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিলের ওপর শুনানি অল্প দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছে সরকারপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা থেকে অব্যাহতি চেয়ে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি ওই আপিল দাখিল করেন আজহার।

রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এই আপিল শুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধান বিচারপতি এই আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় তালিকাভুক্ত করলেই শুনানি শুরু হবে। এ ছাড়া এই শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের প্রাথমিক প্রস্তুতি রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শেষ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। অবকাশ শেষ হলে আজহার ও সুবহানের আপিল কার্যতালিকায় আসতে পারে কি না জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার। তিনি চাইলে শুনানির উদ্যোগ নিতে পারেন। আমরা প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ’

সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্রে জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসংক্রান্ত কোনো আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য নেই। এখন ১২টি আপিল রয়েছে শুনানির অপেক্ষায়। এগুলোর মধ্যে আজহার ও সুবহানের আপিল বেশি পুরনো। তাই মানবতাবিরোধী কোনো আপিল শুনানির ক্ষেত্রে ওই দুটিই অগ্রাধিকার পাবে। সূত্র মতে, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শেষ হলে আজহারের আপিল শুনানির জন্য তালিকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ কালের কণ্ঠকে বলেন, একাত্তরের অপরাধে জড়িত সংগঠন জামায়াতের দুই কেন্দ্রীয় নেতার আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই দুজনের আপিল নিষ্পত্তি হলেই জামায়াতের প্রথম সারির অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, ‘আশা করি, এই আপিলও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবেন প্রধান বিচারপতি। ’

একাত্তরে রংপুর অঞ্চলের আলবদর কমান্ডার আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিই প্রমাণিত হয়। এসবের মধ্যে তিনটি অভিযোগে পৃথকভাবে মৃত্যু, ধর্ষণের অভিযোগে ২৫ বছর কারাদণ্ড এবং অন্য একটি অভিযোগে (একজনকে নির্যাতন) পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে একটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সে অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রায় দুই বছর আগে আজহারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল দুই বছরেও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এসব আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের অপেক্ষা দীর্ঘতর হচ্ছে। তাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আরো বাড়ছে।


মন্তব্য