kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেই নবজাতককে দ্রুত ঢাকায় আনার পরামর্শ ডাক্তারের

তদন্ত কমিটির কাজ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মৃত ভেবে কবরে নামানোর পর কেঁদে ওঠা ফরিদপুরের সেই নবজাতকের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলা সদরের যে হাসপাতালে জন্মের পর শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন চিকিৎসক, সেই ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের ইনকিউবেটরে রেখেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অপরিপক্ব শিশুটিকে বাঁচাতে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া জরুরি বলে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তার শরীরের যে অবস্থা তাতে হেলিকপ্টার ছাড়া অন্য কোনোভাবে দীর্ঘ যাত্রা করার উপায় নেই।

জন্মের পর শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করার ঘটনা তদন্তে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীমের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন শিশু হাসপাতাল কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞ খোন্দকার মো. আবদুল্লাহ হিস সায়াদ বলেন, ‘আমি গত রাতে (বৃহস্পতিবার) শিশুটিকে দেখেছি। যে বয়সে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তাতে বেঁচে থাকা কষ্টকর। তবে শিশুটিকে নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া গেলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। এ চিকিৎসা ঢাকার শিশু হাসপাতাল, ডায়াবেটিক হাসপাতাল ও আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে আছে। তবে এ কথাও সত্য, বর্তমানে শুধু হেলিকপ্টার ছাড়া শিশুটিকে ফরিদপুর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা একটি কঠিন কাজ। ’

নবজাতকের দাদা আবুল কালাম মিয়া জানান, পাঁচ মাস ২২ দিন গর্ভাবস্থায় থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়া কন্যাশিশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘গালিবা হায়াত’। নামটি রেখেছে ওর ফুফা হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, ‘ওকে (নবজাতক) ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন শিশুবিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ওর বর্তমান শারীরিক যে অবস্থা, তাতে ফরিদপুর থেকে ঢাকা যাত্রার ধকল সহ্য করতে পারবে না। তা ছাড়া আমাদের মতো পরিবারের পক্ষে হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার আর্থিক সংগতি নেই। ’

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. অরুণকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘আমি শিশুটিকে দেখেছি। ওই শিশুটির চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞ খোন্দকার মো. আবদুল্লাহ হিস সায়াদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি চিকিৎসকদল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই হাসপাতালের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের আলাদা তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। ’

ফরিদপুর শিশু হাসপাতাল কার্যনির্বাহী কমিটির সম্পাদক ডা. আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিটো জানান, ওই নবজাতকের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। কেন জীবিত অবস্থায় ওই নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হলো সে ঘটনা তদন্তে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শামীমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক মো. শাহজাহান, অ্যাডভোকেট রবীন্দ্রনাথ সাহা, সালাউদ্দিন ফরিদ এবং শওকত আলী জাহিদ।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, শিশু হাসপাতালের গাইনি বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ডা. রিজিয়া আলমকে জরুরি সেবার জন্য ডাকা (অন কল) হয়।

তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য শওকত আলী জাহিদ জানান, ইতিমধ্যে কমিটি কাজ শুরু করেছে। কমিটির সদস্যরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ছাড়াও ওই সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ঘটনা সম্পর্কে কথা বলবে। এরপর প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দেবে।

এদিকে নবজাতকের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে জানিয়ে তার ফুফু নুসরাত নাহার সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. নাজিমউদ্দিন আহমেদ জানান, নবজাতকের পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত মৃত ঘোষণাকারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে প্রসব বেদনা ওঠায় ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হুদার স্ত্রী নাজনীন আক্তারকে (২৩) ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। সে সময় তাকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন কর্তব্যরত ডা. রিজিয়া আলম। এর মধ্যেই সেখানে প্রসূতি এক কন্যাসন্তান প্রসব করেন। স্বজনদের অনুরোধে রিজিয়া আলম নবজাতককে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে কবরস্থানে দাফন করার সময় নবজাতকটি কেঁদে ওঠে। এর পরই তাকে আবার ওই শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


মন্তব্য