kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢামেকে চিকিৎসকের ভূমিকায় ওয়ার্ডবয়, রোগীর মৃত্যু!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঢামেকে চিকিৎসকের ভূমিকায় ওয়ার্ডবয়, রোগীর মৃত্যু!

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় বিপ্লব মণ্ডল (২০) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চুক্তিতে কর্মরত এক ওয়ার্ডবয় নিজে চিকিৎসক সেজে গতকাল শুক্রবার এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছে।

পরে মারা যাওয়া রোগীর স্বজনরা সুমন (২৭) নামের ওই ওয়ার্ডবয়কে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে তারা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেছে।

মারা যাওয়া রোগী বিপ্লবের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে। তাঁর বাবা বিনোদ মণ্ডল কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত রবিবার কেরানীগঞ্জে বিপ্লব মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিপ্লব অসুস্থ বোধ করলে আমরা দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাই। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে ইনজেকশনের নাম লিখে দিয়ে তা দ্রুত কিনে আনতে বলেন। কিন্তু আমরা ইনজেকশন কিনতে যাওয়ার সময় সুমন নামের এক যুবক এসে বিপ্লবের মুখে অক্সিজেন মাস্ক চেপে ধরে। কিছুক্ষণ পর সুমন নিজে থেকেই জানায় যে রোগী মারা গেছে। ’

বিনোদ মণ্ডল অভিযোগ করেন, সুমনের গলায় চিকিৎসকের স্টেথসকোপ ছিল। প্রথমে তাঁরা সুমনকে চিকিৎসকই মনে করেছিলেন। কিন্তু পরে ভালো করে লক্ষ করে দেখেন, ওই যুবক ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও হাসপাতালের মেঝে ঝাঁট দিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বিপ্লবের মৃত্যুর পর স্বজনরা সুমন নামের এক যুবককে ধরে পেটাতে থাকে। খবর পেয়ে হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যায়। ততক্ষণে খবর পেয়ে হাসপাতালের সামনে গাড়ি নিয়ে হাজির হয় শাহবাগ থানা পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে সুমনকে উঠানোর সময় হাসপাতালের সামনে কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় স্বজনরা বিক্ষোভ করে স্লোগান দিতে থাকে—‘সুইপার কেন চিকিৎসক, জবাব চাই, দিতে হবে’। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজন পুলিশি বাধা এড়িয়ে ওই যুবককে গাড়ি থেকে নামিয়ে পিটুনি শুরু করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সুমনকে উদ্ধার করে পুলিশ ক্যাম্পের ভেতরে নিয়ে যায়। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেনি। ঘটনাস্থলে কাউকে দেখাও যায়নি।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘সুমনকে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। সে এখন শাহবাগ থানায় রয়েছে। ’ তিনি জানান, সুমনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে। তার বাবার নাম সালাউদ্দিন।

সুমন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করে, হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের পরামর্শেই সে ওই রোগীর কাছে গেছে। জানায়, চার-পাঁচ মাস ধরে ঢাকা মেডিক্যালের ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডবয় হিসেবে চাকরি করছে সে। এক ওয়ার্ডমাস্টারের মাধ্যমে সে এই চাকরি পেয়েছে।

শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এখনো অভিযাগ পাইনি। অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য