kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অযথা সাংবাদিককে হেনস্তা দুই পুলিশ কর্মকর্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল থেকে আনতে যাচ্ছিলেন কালের কণ্ঠ’র সহসম্পাদক আতাউর রহমান কাবুল। পথে বিনা কারণে তাঁকে এক ঘণ্টা আটকে রেখে চরম হেনস্তা করেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হয়রানির শিকার ওই সাংবাদিক জানান, যানজটে গাড়িতে আটকে থাকার সময় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ট্রাফিক জোনে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে এক পথচারীর সঙ্গে বচসা হতে দেখে এগিয়ে যান তিনি। এ সময় তাঁর হাতে ক্যামেরা দেখে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তেড়ে আসেন। ‘ভিডিও করছেন কেন?’ বলেই তাঁর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন ওই পুলিশ। এরপর সাংবাদিক কাবুল ও তাঁর গাড়িচালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে পাশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ট্রাফিক জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবু ইউসুফের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই কর্মকর্তা সাংবাদিক কাবুল ও চালককে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন ও কার্যালয়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক আটকে রাখেন। পরে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

হেনস্তার শিকার হওয়া সাংবাদিক বলেন, “ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে এক পথচারীর বচসা হতে দেখে আমি এগিয়ে যাই। তবে আমি কোনো ভিডিও করিনি। আমার হাতে ক্যামেরা দেখেই তারা যাচ্ছে তাই আচরণ শুরু করে। এমনকি আমি তাদের আমার ক্যামেরাটা পরীক্ষা করেও দেখতে বলেছি, কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে আমাদের নিকটস্থ ট্রাফিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে। সেখানে অবস্থানরত তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ট্রাফিক জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবু ইউসুফ আমাকে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনি কত বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন? আমি ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে কাজ করেছি, দেশের সব ক্রাইম রিপোর্টার আমাকে চেনে। আমি তাঁকে বিনয়ের সঙ্গে বলি, আমার স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানকে হাসপাতাল থেকে আনতে যাওয়াটা জরুরি। তিনি আমাদের কোনো কথাই শোনেননি। বরং গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভারের পরিচয়পত্রের ছবি মোবাইলে তুলে মুচলেকা নেয়। ’’ 

জানতে চাইলে আবু ইউসুফ বলেন, ‘বিনা অনুমতিতে পুলিশের ছবি তোলা অপরাধ। আর দুর্ব্যবহার করার জন্য চালকের মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। ’

এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের ডিসি মাসুদুর রহমান ও ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য