kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আউটার রিং রোডে গাড়ি চলবে শিগগিরই!.

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দ্রুতগতিতেই এগিয়ে চলছে বঙ্গোপসাগরের উপকূলজুড়ে চট্টগ্রামের বহুল আকাঙ্ক্ষিত আউটার রিং রোডের কাজ। বাংলাদেশ সরকার ও জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির এখন চলছে মাটি ভরাটের কাজ।

আগামী ফেব্রুয়ারি নাগাদ গাড়ি চলাচল উপযোগী হয়ে উঠবে এই সড়কের মাটির রাস্তা। তবে কার্পেটিংসহ পুরো প্রকল্প শেষ হতে আরো প্রায় তিন বছর সময় লাগবে। আউটার রিং রোড প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দর নগরীর যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে বর্তমানে একমাত্র বিমানবন্দর সড়কটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরমুখী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান আর চট্টগ্রাম ইপিজেডের জনজটে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। রিং রোড বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দর সড়কের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যাবে। পতেঙ্গা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরমুখী বিকল্প সড়ক সৃষ্টি হবে।

এ ছাড়া বাস্তবায়নাধীন আরেক প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের কানেকটিং সড়ক হিসেবেও ব্যবহার করা হবে এই রিং রোড। আগামী তিন বছরের মধ্যে সড়কটি নির্মিত হলে কক্সবাজারমুখী গাড়িগুলো সহজেই পতেঙ্গার নেভাল একাডেমির পাশ দিয়ে টানেল হয়ে কর্ণফুলীর ওপারে চলে যেতে পারবে। ফলে বাস্তবায়নাধীন চায়না ইকোনমিক জোনসহ কর্ণফুলীর অন্য পার আনোয়ারায় শিল্প বিকাশে এই যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ইপিজেডের সঙ্গেও সংযুক্ত হবে এই রিং রোড। ইপিজেড লাগোয়া রিং রোডের সঙ্গে একটি আলাদা গেট করা হবে, যেটি দিয়ে ইপিজেডে উৎপাদিত পণ্য ও কাঁচামাল পরিবহনে ব্যবহূত কাভার্ড ভ্যান ও লরি রিং রোড ব্যবহার করে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসহ অন্যান্য গন্তব্যে যাবে বলে বেপজা সূত্র জানিয়েছে।

গত মঙ্গলবার প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রাম পতেঙ্গা-সাগরিকা উপকূলজুড়ে বইছে ধূলিঝড়, চলছে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। সাগরের মাটি দিয়ে গড়ে উঠছে আগামীর আউটার রিং রোড। বৃষ্টির কারণে বর্ষায় বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে মাটি ভরাটের কাজ শেষ করতে ড্রেজার, এক্সকাভেটর, পে লেডার ও ড্রাম ট্রাকের সমন্বয়ে চলছে কাজ। ড্রাম ট্রাকগুলো দিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় সাগরপারজুড়ে ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয়। তবে ২০১৯ সালের জুন নাগাদ এই অসাধ্য সাধন হলে চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায়ও একটা বড় ধরনের বিপ্লব হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

সিডিএ সূত্র জানায়, শুরুতে চট্টগ্রাম ইপিজেডের পেছনের এলাকার শুধু দেড় কিলোমিটারে কংক্রিটের ব্লক বসানোর কথা থাকলেও উপকূলবাসীকে সাগরের তাণ্ডব থেকে রক্ষা করতে এবং সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে এখন প্রকল্পের পুরো ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ব্লক বসানো হবে। এ ছাড়া পতেঙ্গা থেকে রিং রোডের চার কিলোমিটার সড়কের পাশে পর্যটন জোন গড়ে তোলা হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তত্ত্বাবধানে কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনভিত্তিক এসইএল-কেএনআর জেবি।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শাম্স কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে এই রাস্তা মাটি ভরাট করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার রাস্তার ১১ কিলোমিটারজুড়ে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মাটি ভরাটের কাজ প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে।


মন্তব্য