kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশও মানছে না ঢাকা ওয়াসা

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশও মানছে না ঢাকা ওয়াসা

বিধিবহির্ভূতভাবে ঢাকা ওয়াসায় দুইজন উপদেষ্টা নিয়োগ বাতিল করতে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়ার পরও তা আমলে নিচ্ছে না সংস্থাটি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ আখ্যা দিয়ে তা বাতিল করতে সর্বশেষ ২৮ জুলাই একটি চূড়ান্ত পত্র পাঠানো হয়।

কিন্তু এ পত্র পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট দুই উপদেষ্টা নিয়মিত অফিস করছেন।   নিয়োগ বাতিলে মন্ত্রণালয়ের অনুশাসন থাকার পরও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান তাঁর দুই আস্থাভাজনকে না সরিয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন। উল্টো তাঁদের পক্ষে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সর্বশেষ ওয়ানার বোর্ড সভায় ‘সাফাই’ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে, ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক পত্র পেয়েছি। এসব পত্র নিয়ে বোর্ডে আলোচনা হয়েছে। তাই মন্তব্য করা যাচ্ছে না। ’

গত কয়েক দিন ঢাকা ওয়াসার কারওয়ান বাজার অফিসে গিয়ে দেখা যায় নিয়মিতই অফিস করছেন এমডির উপদেষ্টা আবুল কাশেম ও মো. বজলুর রহমান। আবুল কাশেম এমডির স্টাফ অফিসারের রুমে বসেন আর বজলুর রহমান পদ্মা প্রকল্পের অফিসে বসেন। মন্ত্রণালয়ের পত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা এমডির উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে নিয়মিত কাজ করছি। মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ অবৈধ বলে থাকলে তা এমডি ভালো বুঝবেন। ’

সর্বশেষ গত ২৮ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো চূড়ান্ত পত্রে বলা হয়, ‘পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন-১৯৯৬-এর ধারা ৩০(১)-এ উল্লেখ আছে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উহার কার্যাবলি সুষুমভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা, উপদেষ্টা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে, কর্তৃপক্ষ উহার প্রথম সাংগঠনিক কাঠামো বাস্তবায়নের পূর্বে তা অনুমোদনের জন্য সরকারের নিকট পেশ করবে। ’

পত্রে আরো বলা হয়, ‘ঢাকা ওয়াসার সাংগঠনিক কাঠামোতে উপদেষ্টার কোনো পদ নেই। উপদেষ্টার কোনো পদ না থাকায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন-১৯৯৬-এর ৩০ ধারা মোতাবেক বর্ণিত পদে নিয়োগ প্রদান আইনের পরিপন্থী বা লঙ্ঘন। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপদেষ্টা হিসেবে মো. বজলুর রহমান ও মো. আবুল কাশেমের চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ মর্মে প্রতীয়মান হয়। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “বিধিবহির্ভূত এ নিয়োগের পর মন্ত্রণালয় থেকে পর পর তিনটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২৮ জুলাই পত্রে চূড়ান্তভাবে দুই উপদেষ্টা নিয়োগ বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয় অনুশাসন দিয়েছে। এরপর ওয়াসার এমডি গত মাসের মাঝামাঝি সর্বশেষ বোর্ড সভায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বাইরে গিয়ে নিয়োগের পক্ষে নানা ‘সাফাই’ তুলে ধরেন। এভাবে মন্ত্রণালয়কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে একটি অবৈধ নিয়োগ দিয়ে ওয়াসার মতো একটি প্রতিষ্ঠান চলবে—তা হতে পারে না। ”

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রথম একটি পত্র পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, ‘ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপদেষ্টা পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পানি সরবরাহ আইন ১৯৯৬ (১৯৯৬ সালের ৬ নম্বর আইন)-এর ধারা ৩০(১) ও বেতন-ভাতা নির্ধারণে অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের নিদের্শাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে বজলুর রহমানকে পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পের পরিচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ১০ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৩০ নম্বর প্রজ্ঞাপনের নির্দেশাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদন না থাকায়; পানি সরবরাহ আইন ১৯৯৬ (১৯৯৬ সালের ৬ নম্বর আইন)-এর ধারা ১৬(১) প্রতিফলিত না হওয়ায় উপদেষ্টা ও প্রকল্প পরিচালক পদ থেকে বজলুর রহমানের নিয়োগ বাতিল করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এ পত্রের পরও ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। এরপর ২৭ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি তাগাদা পত্র দেওয়া হয়। সেখানেও এ দুই উপদেষ্টা নিয়োগ ওয়াসা বোর্ডের এখতিয়ার বহির্ভূত বলে উল্লেখ করে ওয়াসার ২৩৪তম বোর্ড সভায় আলোচনা হওয়ার বিষয়টি আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলেও উল্লেখ করা হয়। এরপর ওয়াসার সর্বশেষ বোর্ড সভায় একইভাবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বাইরে গিয়ে নিয়োগের পক্ষে কিছু বিতর্কিত ও আইন পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


মন্তব্য