kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সবই আছে, নেই শুধু জনবল

৩ বছরেও চালু হয়নি খুলনার আবু নাসের হাসপাতালের আইসিইউ

কৌশিক দে, খুলনা   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আধুনিক যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো—সবই আছে। নেই শুধু ওই যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ চিকিৎসক, সেবিকা ও টেকনিশিয়ান।

আর এ কারণেই গেল তিন বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু করা যায়নি। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ একমাত্র ভরসা এ বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না করায় আইসিইউর কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি এখন নষ্ট হওয়ার পথে। আর এ সুযোগে বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন জানালেও কার্যত কোনো ফল হয়নি।

পদ্মার এপারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জটিল রোগের সহজলভ্য সুচিকিৎসার জন্য ১৯৯৮ সালে তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার খুলনায় ১১ একর জমির ওপর শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু করে। কিন্তু সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে শুধু নামের কারণে অবহেলার শিকার হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে এর নির্মাণকাজ। তত্কালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এ হাসপাতালের অত্যাধুনিক অনেক যন্ত্রপাতি অন্যত্র স্থানান্তর করে। এরপর আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে ২০১০ সালের ৩০ মার্চ মাত্র ৩০টি শয্যা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে হাসপাতালটি। শুরুতে চালু ছিল কার্ডিওলজি ও কিডনি বিভাগ। বর্তমানে এখানে ইউরোলজি, নিউরোলজি ও কার্ডিওলজিসহ রয়েছে ১০টি বিভাগ। আর শয্যা সংখ্যা ১৫১টি।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আইসিইউ চালু করতে প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, প্রশিক্ষিত সেবিকা ও দক্ষ টেকনিশিয়ান। কিন্তু তার কোনোটিই নেই আবু নাসের হাসপাতালে। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও চালু হচ্ছে না আইসিইউটি। তবে এটি চালু হলে ন্যূনতম খরচে এখান থেকে মুমূর্ষু রোগীরা সেবা নিতে পারবে। তখন আইসিইিউর অভাবে এ অঞ্চলের মানুষকে বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করে ঢাকা কিংবা অন্যত্র যেতে হবে না।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিধান চন্দ্র গোস্বামী বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে ৪১টি কনসালট্যান্ট ও মেডিক্যাল অফিসার বা সমমানের পদ রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে ১৮টি পদই শূন্য রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে জনবলের অভাবে আইসিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চালু করা যাচ্ছে না। এই ইউনিটটি চালু করতে ১০ জন অতিরিক্ত ডাক্তার, পাঁচজন অ্যানেসথেটিস্ট ও ২০ জন সেবিকার জন্য স্বাস্থ্য মন্ণনালয়ে আবেদন ও বহুবার চিঠি চালাচালি করেও লাভ হয়নি। তিনি আরো বলেন, কয়েক মাস আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতাল পরিদর্শনও করেছে। সর্বশেষ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাঙ্গেও এ বিষয়ে আলাপ হয়েছে। তিনি এটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দিয়েছেন। ’

তবে স্থানীয়রা যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো থাকলেও আইসিইউ ইউনিট চালু না হওয়ার  পেছনে অসাধু ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন। এ বিষয়ে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কারণেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশেষায়িত হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ’

উন্নয়ন কমিটির এই নেতা বলেন, ‘বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালের কাছে এ অঞ্চলের মানুষ জিম্মি।   সংকটাপন্ন রোগী এলেই এই হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো নানা কৌশলে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে বলে আমাদের কাছে প্রায়ই অভিযোগ আসে। তাই তারা চায় না এই ইউনিট চালু হোক। ’

হাসপাতালের ইন্সট্রুমেন্ট কেয়ারটেকার এস এম শাকিব হাসান বলেন, আইসিইউ চালুর জন্য সব যন্ত্রপাতিই রয়েছে। এর কোনোটি এক বছর, কোনো কোনোটি দুই বছর আবার কোনোটি প্রায় তিন বছর আগে আনা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেকগুলোর ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

ইউনিটের ইনচার্জ ডা. মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, সেটআপের সময় মেশিনারিজগুলো পরীক্ষা করে নেওয়ার কথা। কিন্তু দক্ষ জনবল না থাকার কারণে সে সুযোগ ছিল না। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে অকেজো হতে বসেছে অনেক যন্ত্রপাতি।


মন্তব্য