kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ধর্ষণের তদন্ত করছেন ইউপি চেয়ারম্যান

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এক ছাত্রীকে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও প্রচার অভিযোগ তদন্ত করছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। যদিও যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা বিচারের এখতিয়ার ইউপি চেয়ারম্যানের নাই।

এলাকাবাসী জানায়, নার্সিং পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১৮) রণজিৎ মণ্ডলের ছেলে কুমারেশ মণ্ডল (২০) নির্যাতন করে। গত এক সপ্তাহ ধরে এর ভিডিও এলাকার যুবকদের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই মেয়ের কলেজ পড়ুয়া ভাই জানান, এক মাস আগে তাঁর বোনকে নির্যাতন করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী কুমারেশ। একই সঙ্গে সে দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে। তাঁর বোন ও তাঁরা সম্মান হারানোর ভয়ে কাউকে এত দিন বিষয়টি জানাননি। তবে এখন ভিডিওটি এমনভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা লজ্জার মধ্যে পরে গেছেন। এখন কী করা উচিত তা বুঝতে পারছেন না তাঁরা। তাঁর বোনও বিষয়টি জেনেছেন। ফলে সে বাড়িতে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে এর বিচার চেয়েছেন।

মেয়ের মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে কথা আছে বলে বাড়িতে এসে ডেকে নিয়ে যায় কুমারেশ। পরে সে মেয়েকে নির্যাতন করে এবং ওই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে। যা উঠতি যুবক ও কিশোরদের মোবাইলে ছড়িয়ে দিয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকে লোকলজ্জার মধ্যে পড়েছি। এ কারণে আমরা ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়েছি। ’ ইউপি সদস্য অভিমান্য মণ্ডল বলেন, ‘কুমারেশকে এর আগে বিভিন্ন অপরাধের কারণে শাসন করা হয়েছে। এখন আর বাড়িতে আসে না। তা ছাড়া ধর্ষণের বিষয়টি আমার এখতিয়ারের বাইরে। ফলে কিছুই বলার ও করার নেই। ’

জঙ্গল ইউপির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। মেয়েটির মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। এ নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। এখনো তদন্তকাজ শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ হলেই ব্যবস্থা নেব। ’

বালিয়াকান্দি থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনার কিছুই আমি জানি না। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। ’

ধর্ষণের সালিস করায় মাতবরদের নামে মামলা

এদিকে মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই ঘটনা সালিসে মীমাংসা করায় মাতবরদের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে। মানিকগঞ্জের ঘিওর থানায় গত সোমবার রাতে এ দুটি মামলা হয়। গ্রেপ্তারের স্বার্থে পুলিশ আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি। জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন ১২-১৩ বছর বয়সী মেয়েটির মা বছর দুয়েক ধরে জর্দানপ্রবাসী। বাবা বাসের সহকারী। এ কারণে মেয়েটি থাকে মামার বাড়িতে। ঈদের কয়েক দিন আগে একই গ্রামের দুলাল নামের এক লোক তার ওপর নির্যাতন করে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় মেয়েটির সঙ্গে থাকা আরো দুই শিশুর মাধ্যমে। মেয়ের মামা বিষয়টি জানার পর এ নিয়ে অভিযোগ করেন গ্রামের মুরুব্বি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ঘিওর উপজেলার চেয়ারম্যান মহব্বত আলী খানের কাছে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাও।
 


মন্তব্য