kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গৃহবধূ টুম্পার লাশ দাফন, সন্দেহ শ্বাসরোধে হত্যার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়ার স্ত্রী নুশরাত জাহান টুম্পার লাশ দাফন করা হয়েছে গাজীপুরের পারিবারিক কবরস্থানে। এর আগে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক জানিয়েছেন, টুম্পার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। এদিকে টুম্পার খুনি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুরে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। এতে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। টুম্পার একমাত্র সন্তান রাফিও মানববন্ধনে অংশ নেয়। স্বজনদের দাবি, স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা সোলায়মান মিয়া টুম্পাকে হত্যার পর পালিয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে গতকাল সকালে গৃহবধূ টুম্পার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড এ ময়নাতদন্ত করে। বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ কে এম শফিউজ্জামান জানান, টুম্পার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় জমাট বাঁধা রক্ত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। আরো নিশ্চিত হতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য কিছু নমুনা মহাখালীর পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে টুম্পার লাশ বিকেলে নেওয়া হয় বাবার বাড়ি গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে। সেখানে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় জমে। পারিজাত প্রাইমারি স্কুল মাঠে জানাজা শেষে টুম্পার লাশ দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে। পরে স্থানীয়রা টুম্পার স্বামী সোলায়মান মিয়াকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন। টুম্পার একমাত্র ছেলে রাফিও প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধনে অংশ নেয়। এতে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শফিকুল আমিন তপন, আজাহারুল ইসলাম মোল্লা, মো. খলিলুর রহমান, আব্বাস উদ্দিন খোকন, শাহনাজ পারভিন, মাহমুদা আক্তার মুক্তি, শিল্পপতি মফিজুল ইসলাম, জাকির হোসেন, ফারুক হোসেন, ইসমাইল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা সরবেশ আলী খান, শেখ মো. আক্কাস আলী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

টুম্পার বাবা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই সোলায়মান নির্যাতন করে আসছিল টুম্পাকে। সন্তানের কারণে সব কিছু সহ্য করে আসছিলেন টুম্পা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। অন্য নারীতে আসক্তির কারণেই সোলায়মান বালিশচাপা দিয়ে টুম্পাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

সোমবার উত্তরার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় গৃহবধূ টুম্পার লাশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক তাঁর স্বামী গাজীপুর সিটির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়া।


মন্তব্য