kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গুলশানে হামলাকারীদের নিয়ে তামিম তাদের বাসায় ছিল

রিমান্ডে রাসেলের দেওয়া তথ্য

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার আগে তানভীর কাদেরীর বারিধারার বাসায় ছিল হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী ও হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি। ওই বাসার একটি কক্ষে তামিম থাকত।

আর অন্য কক্ষে থাকত বাকি জঙ্গিরা।

তানভীরের স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা তাদের রান্না করে খাওয়াত। শীর্ষ জঙ্গিদের মধ্যে মারজান, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম, বাশারুজ্জামান ও মুসাও ওই বাসায় নিয়মিত আসত। গুলশান হামলার দিন সকালে তানভীর সপরিবারে ওই বাসা ছাড়ে। আর বিকেলেই তামিম ওই বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়।

আজিমপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরীর কিশোর ছেলে তাহরীম কাদেরী ওরফে রাসেল রিমান্ডে এসব তথ্য দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সে তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ছিল রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিটের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হলি আর্টিজানে হামলার তথ্য জানত কিশোর রাসেল। কারণ ওই বাসায় গুলশান হামলার পরিকল্পনা বৈঠক করত তামিম। এরপর যখন হামলা হয় তখন ইন্টারনেট ও তার বাবার মাধ্যমে সব জানতে পারে সে।

রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরো জেনেছেন, গুলশান হামলার অন্তত চার মাস আগে তানভীর কাদেরী সপরিবারে উত্তরায় থাকত। ওই সময় রাসেল উত্তরার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে লেখাপড়া করত। লেখাপড়ায় ভালো হওয়ায় সে সময় রাসেলকে প্রকৌশলী বানানোরও স্বপ্ন দেখত তার মা-বাবা। আজিমপুরের বাসায় ওঠার আগে তানভীর পরিবার নিয়ে পল্লবী ও শ্যামলী এলাকায়ও কিছুদিন ছিল। ওই সময় রাসেলের অন্য ভাইকে নিজেদের কাছ থেকে দূরে রাখে তার মা-বাবা।

সিটিটিসি ইউনিটের উপকমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, রাসেল কিশোর হলেও আরো অল্প বয়স থেকে শীর্ষ জঙ্গিদের সঙ্গে তার মেলামেশা ছিল। তার বাবা ও শীর্ষ জঙ্গিরা তাকে শিখিয়েছে, জিহাদ করে মৃত্যু হলে সহজেই বেহেশতে যাওয়া যায়। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে সে তার মা-বাবা, ভাইসহ নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতাদের সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর আজিমপুরের পিলখানা রোডে ২০৯/৫ নম্বর ছয়তলা আবাসিক ভবনের দোতলায় অভিযান চালায় সিটিটিসি ইউনিট। পরে ওই বাসা থেকে তানভীর কাদেরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় আহত হয় তিন নারী জঙ্গি। ওই বাসা থেকেই কিশোর রাসেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে কিশোর সংশোধনাগারে রাখা হয়। এরপর গত রবিবার আদালতের নির্দেশে রাসেলকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।


মন্তব্য