kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রিয় প্রাঙ্গণে উচ্ছল প্রাণের মেলা

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রিয় প্রাঙ্গণে উচ্ছল প্রাণের মেলা

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল কেক কাটা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের ছাত্রদের মধ্যে সব সময় একটা মতবিরোধ লেগেই থাকত। সপ্তম ব্যাচের ছাত্র মোজাম্মেল ভাই মেডিসিনের পক্ষে আর আমরা সার্জারি বা সার্জনদের পক্ষে ছিলাম।

একদিন দুই পক্ষের মধ্যে লেগে গেল তুমুল বাগিবতণ্ডা। যুক্তি দিয়ে কেউ কাউকে হারাতে পারছে না। একপর্যায়ে মোজাম্মেল ভাই গেয়ে উঠলেন জারি গান। আর সেই গান শুনে আমরা সবাই এক হয়ে গেলাম।

সেদিনের মতো আবার এক হওয়ার উপলক্ষ পেয়ে এভাবেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দিয়েছিলেন ৭১ বছর বয়সী চট্টগ্রামের অর্থোপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. ইমামউদ্দিন। তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অষ্টম ব্যাচের ছাত্র। বলছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ অর্থাৎ সপ্তম ব্যাচের ছাত্র সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোজাম্মেল হোসেন সম্পর্কে।

ডা. ইমাম যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণা করছিলেন তখন অতিথি চিকিৎসকদের আসনের প্রথম সারিতে বসা অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের সাবেক ছাত্র। ইমামউদ্দিন ও সামন্ত লাল একই ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে বসেছিল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। দুই দিনের অনুষ্ঠানের শুরুর দিনে ডা. ইমামের মতো প্রাক্তন ছাত্ররা ফিরে যান তাঁদের প্রিয় শিক্ষাঙ্গনে কাটানো দিনগুলোয়।

সহপাঠীদের আবার একসঙ্গে পেয়ে উচ্ছল হয়ে ওঠেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ‘আমার বন্ধু ডা. আফছারুল আমীন বলল, ফুটবল নিয়ে আসিসনি কেন? সে আবার এটাও বলেছে, সব ঝগড়া নাকি আমিই বাধাতাম। চমেক চত্বর আমাদের দেয়নি এমন কিছু নেই। আমার স্বাধীনতা পদক চমেক শিক্ষক-ছাত্রদের উৎসর্গ করছি। ’

সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘এনাটমি বিভাগের পাশ দিয়ে আসলে এখনো আমার ভয় লাগে। এটি কঠিন বিষয়। ’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ এ মেডিক্যাল কলেজের ১৫তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজকে যে সম্মাননা পেয়েছি তা আমার জন্য অনেক বড়। এই ক্যাম্পাস আমার অনেক প্রিয়। ’

কেবল স্মৃতিচারণা নয়, ক্যাম্পাসের এখানে ওখানে আড্ডায় মেতেছিলেন কয়েক হাজার চিকিৎসক। ১৯৫৭ সালের প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ৫৮তম ব্যাচে চার হাজারের বেশি সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী অংশ নেন অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে কলেজের সাবেক সাত ছাত্রকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা ডা. শাহ আলম বীর-উত্তম (মরণোত্তর), অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ডা. আফছারুল আমীন, ডা. মোজাম্মেল হোসেন, অধ্যাপক এল এ কাদেরী, অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ ও ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া।

এ ছাড়া সাবেক দুই কর্মচারী বিনোদ বিহারী দে (মরণোত্তর) ও মোহাম্মদ মুছাকেও আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

দুপুরে কলেজ মাঠে কেক কেটে সিএমসি ডে ২০১৬ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।


মন্তব্য