kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জামানত ছাড়াই নগদ এলসি অনুমোদন

অগ্রণী ব্যাংকের ক্ষতি ২২৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কোনো ধরনের জামানত না নিয়ে অপরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানির জন্য নগদে এলসি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। পুনঃতফসিল করা ঋণও আদায় করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

এতে ব্যাংকটির ২২৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারের নিরীক্ষা বিভাগের নিরীক্ষা আপত্তি থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত কার্যপত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মহীউদ্দীন খান আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, শামসুল হক, মইন উদ্দীন খান বাদল, রেবেকা মমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে অগ্রণী ব্যাংকের ২০০৯-১০ সালের ঋণ পুনঃতফসিল করা ও সুদ মওকুফ সম্পর্কিত ২৪টি নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। এর সঙ্গে জড়িত টাকার পরিমাণ ৬৮০ কোটি ৩১ লাখ। কমিটি জানিয়েছে, জামানত গ্রহণ ছাড়া এলসি খোলায় সহায়তাকারী ব্যাংক কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঋণ গ্রহণ করা কম্পানিগুলো যাতে অন্য কোনো ব্যাংক থেকে ভিন্ন নামে এলসি খুলতে না পারে তা দেখভাল করতে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবির মাধ্যমে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে তা সংসদীয় কমিটিকে জানাতে বলা হয়েছে।  

বৈঠকে উত্থাপিত আরেকটি নিরীক্ষা আপত্তিতে বলা হয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠানের জমির দাম বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দেখিয়ে ঋণ দেওয়ায় এবং বারবার পুনঃতফসিল করার পরও সেই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকটির ১৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প ও সিসি হাইপো ঋণের দায় পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও অগ্রণী ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো অনিয়মিতভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। এ কারণে ব্যাংকটির ৪৮ কোটি ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কমিটি এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।


মন্তব্য