kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দহগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আলোচিত ‘ছিটমহল’ দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রায় ২৫ বছর পর এই প্রথম সেখানে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ। গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম হযরত আলী (৩৫)। তিনি দহগ্রামের বঙ্গেরবাড়ী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।

হযরত আলী ভারত থেকে গরু আনতে সে দেশে গিয়েছিলেন—স্থানীয় লোকজনের অনেকে এমন দাবি করেছে। তবে তাঁর পরিবার বলছে, তিনি ওই দেশে থাকা খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হযরত আলীকে হত্যার পরপরই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁর লাশ নিয়ে যায়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি সূত্রে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডের পর কড়া প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি বিজিবি-বিএসএফ ওই সীমান্তে পতাকা বৈঠকে বসে।

গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করে বিএসএফ দাবি করেছে, হযরত আলী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের পরই বিএসএফ ফেরত দেবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

বিজিবি ও স্থানীয় লোকজন জানায়, দহগ্রামের গাটিয়ারটারী সীমান্ত দিয়ে গত সোমবার সন্ধ্যার পর হযরত আলীসহ প্রায় ১০ বাংলাদেশির একটি দল ভারতে প্রবেশ করে। তারা সে দেশের মেকলিগঞ্জ থানার বাগডোগরা গ্রামে থাকা ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বেশ কয়েকটি গরু নিয়ে গতকাল ভোরে একই সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরছিল। ওই সময় বিএসএফের অরুণ ক্যাম্পের জওয়ানরা দলটিকে লক্ষ্য করে ককটেল ও শটগানের গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান হযরত আলী।

হযরতের বাবা আমির হোসেন বলেন, ‘হযরত ভারতের কোচবিহার জেলার ময়নাগুড়িতে থাকা খালারবাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে বিএসএফ গুলি করে তাকে হত্যা করেছে। ’

জানা গেছে, ভারতের সঙ্গে চুক্তির পর ১৯৯২ সালের ২৬ জুন তিনবিঘা করিডরের মাধ্যমে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর এই প্রথম দহগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের হাতে কোনো বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমদ বজলুর রহমান হায়াতী গতকাল সন্ধ্যায় হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


মন্তব্য