kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিএনপি নেতারা বললেন

আগামী নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে করার ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে জনগণ মেনে নেবে না।

বিএনপি নেতারা এ কথা বলেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতারা এ কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নবম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন তিনি। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান।

ঈদুল আজহার কারণে নির্দিষ্ট দিনের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছিল।

আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছে। আর বিএনপি সেগুলোকে রক্ষা করতে, শক্তিশালী করতে আন্দোলন করছে।

সরকার প্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি নিজের মতো করে সব কিছু সাজিয়ে নির্বাচন করবেন, সে নির্বাচনে আমরা বিশ্বাস করি না, এ দেশের জনগণ বিশ্বাস করে না। সার্চ কমিটি করুন, আর যা-ই করুন; জনমতের বাইরে গিয়ে করলে চলবে না। ’ তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। এর অন্যথা হলে জনগণ মেনে নেবে না।

খালেদা জিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র মানে খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়া মানে গণতন্ত্র। এটাই সত্য কথা। আজ যারা খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বিদ্রূপ করছে তারা ১৯৮৬ সালে এরশাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

ফখরুল বলেন, সরকার জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে ধ্বংস করার জন্য কাজ করছে। আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়ে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে ১০ জনের সন্ত্রাস দমন কমিটি করা হয়েছে। তারা তালিকা তৈরি করছে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বলছে, এত টাকা দাও, তা না হলে তোমার নামে জঙ্গির মামলা দেওয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে আন্দোলন চলছে তাতে দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে শরিক হতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী নির্বাচন দিতে হবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকার সার্চ কমিটির মুলা ঝুলিয়েছে। সার্চ কমিটি কে গঠন করবে? রাষ্ট্রপতি? সেটা অনুমোদন করবে কে? প্রধানমন্ত্রী? তাহলে সে কমিটি নিরপেক্ষ হবে!’ তিনি বলেন, আগে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল—এমন সব রাজনৈতিক দলের লোক নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হোক।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মানুষের বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। এখন সার্চ কমিটির নাটক শুরু হয়েছে। এটা জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস সভায় সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে বিএনপির মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদিন ফারুক ও খায়রুল কবীর খোকন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের মীর শরাফত আলী সপু, মহিলা দলের নুরে আরা সাফা, যুবদলের আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর বিএনপির কাজী আবুল বাশার ও ছাত্রদলের রাজীব আহসান বক্তব্য দেন।

 


মন্তব্য