kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রংপুরে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রংপুরে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু

রংপুরে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু করেছে কৃষকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুর অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি ও আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ ধানকে অসময়ের ধানও বলা হয়।

ফলে এ অঞ্চলের কৃষকের ঘরে আশ্বিন-কার্তিক মাসের (যে সময় এলাকায় তেমন কোনো কাজ থাকে না) অভাব অনেকটাই দূর হবে।

মৌসুমের শুরুতে বৈরী আবহাওয়া থাকলেও সময়মতো আগাম আমন ধান কাটতে পারায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে কৃষকের মধ্যে। বিশেষ করে ঈদের আগে-পরে স্বল্পমেয়াদি ধান ঘরে তুলতে পারায় ঈদের সঙ্গে যোগ হয়েছে ধান কাটার আনন্দ।

সাম্প্রতিক বন্যায় শস্যভাণ্ডার বলে খ্যাত রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় রোপা আমন ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর দফায় দফায় ভারি বর্ষণে ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ধানের ক্ষেতগুলো ফিরে পায় সতেজতা। তিস্তার চরাঞ্চলসহ এ অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি ও আগাম জাতের আমন ধানের আবাদ হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে এ অঞ্চলের পাঁচ জেলায় প্রায় ছয় লাখ হেক্টর জমিতে চারা লাগানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে রংপুরে এক লাখ ৬৩ হাজার ৯১৫ হেক্টর, গাইবান্ধায় এক লাখ ২১ হাজার ৮৮০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৯৭ হাজার ২৮৫ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৮৪ হাজার ৮৪৮ হেক্টর এবং নীলফামারীতে এক লাখ ১২ হাজার ১৯৫ হেক্টর। কিন্তু অবিরাম বর্ষণসহ সাম্প্রতিক বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় মৌসুমের শুরুতে রোপণ করা পাঁচ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমির ধানক্ষেত।

অন্যদিকে মৌসুমের শেষদিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে রোপণ করা আমন ক্ষেতগুলো সজীবতা ফিরে পায়। এসব জমিতে অন্য বছরের তুলনায় ফলনও ভালো হবে বলে আশাবাদী কৃষকরা।

আগাম রবি ফসল চাষের লক্ষ্য নিয়ে কৃষকরা এমন জমিতে প্রতিবছর স্বল্পমেয়াদি ও আগাম জাতের ধান চাষ করে থাকে। অন্যান্য বছর এসব জমিতে বাড়তি সেচের প্রয়োজন হলেও এবারে ভারি বর্ষণে সেচ ছাড়াই আশানুরূপ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি ও আগাম জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে ব্রি-৩৩, ব্রি-৩৯, ব্রি-৪৫ ও বিনা-৭। প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে এ ধান চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়া হাইব্রিড জাতও রয়েছে। এসব ক্ষেতের ধান এখন পাকতে শুরু করেছে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকায় পুরোদমে এ ধান কাটা শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবুজ আমন ক্ষেতের মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে স্বল্পমেয়াদি ও আগাম জাতের সোনালি ধান।

কয়েক বছর ধরে ব্রি-৩৩ ও বিনা-৭ জাতের আগাম ধানের চাষ করেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের হাবু গ্রামের কৃষক তৈয়ব আলী। তিনি জানান, প্রচলিত ধানের চেয়ে এক থেকে দেড় মাস আগে এ ধান কাটা যায়। এ অঞ্চলে আশ্বিন-কার্তিক মাসের অভাবের সময় এই ধান পাওয়া যায় বলে এলাকার মানুষ আগাম জাতের এ ধানকে ‘মঙ্গার ধান’ বলে থাকে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া, রণচণ্ডী, গাড়াগ্রাম, বড়ভিটাসহ বিভিন্ন এলাকায় চাষ করা এই আগাম জাতের আমন ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকরা। এখানকার কৃষকরা এ ধান কাটার পর আগাম আলু চাষ করে।


মন্তব্য