kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাউফলে মা-মেয়েকে ধর্ষণ

মেয়ের আত্মহত্যাচেষ্টা মামলা তুলে নিতে প্রভাবশালীদের চাপ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মেয়ের আত্মহত্যাচেষ্টা মামলা তুলে নিতে প্রভাবশালীদের চাপ

প্রথমে ধর্ষণের শিকার। তারপর কলেজে বাড়িতে চলার পথে নানা ধরনের কটূক্তি, হাস্যরস ও গঞ্জনা।

এসব সহ্য করতে না পেরে অবশেষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কলেজ পড়ুয়া সেই মেয়ে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কলেজে যাওয়ার আগমুহূর্তে সে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

গত ১১ জুন সে এবং তার মা একত্রে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের  প্রভাবশালী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই দিন সন্ধ্যায় তাদের ট্রলারে তুলে তেঁতুলিয়া নদীতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছিল। ধর্ষকরা সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মী হওয়ার কারণে তাদের চাপে এই আত্মহত্যাচেষ্টার ঘটনাটি গোপন রাখা হয়েছিল বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছে স্থানীয় একাধিক সূত্র। এ ছাড়া এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সবাই।

ওই কিশোরীর এক কাছের আত্মীয় নাম গোপন রাখার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানায়, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকে পুলিশি তৎপরতা খুবই নাজুক। আসামিরা প্রভাবশালী এবং সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য পরিবারটিকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আত্মহত্যার চেষ্টার কয়েক দিন আগ থেকে মেয়েটিকে কলেজে আসা-যাওয়ার পথে মামলা প্রত্যাহারসহ ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে আরো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। নিজেকে এসব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ১৮ সেপ্টেম্বর কলেজে যাওয়ার আগমুহূর্তে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় সে। একপর্যায়ে তার মা ঘরে ঢুকে মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করেন এবং বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই মেয়েটি চিকিৎসাধীন। ওই ঘটনার পর নানা হুমকিতে নিরাপত্তাসহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিশোরীসহ ওই পরিবারটি।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নানা ধরনের হুমকির মুখে মেয়েটির আত্মহত্যার বিষয়টি তাত্ক্ষণিক বাউফল থানা পুলিশ জানার পর বিষয়টি গোপন রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকেই ওই পরিবারকে চাপে রাখা হয়। এ কারণে ঘটনা জানাজানি হয় দেরিতে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আযম খান ফারুকী বলেন, ‘আমাকে ওই মেয়ের বাবা বলেছে, ওই দিন কলেজে যাওয়ার সময় তাঁর (বাবা) কাছে কিছু টাকা চায় মেয়েটি। কিন্তু মেয়ের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। মামলা প্রত্যাহারের জন্য ওই পরিবারকে কেউ কোনো হুমকি দিচ্ছে না। ’


মন্তব্য