kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রংপুরে গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ভুয়া ডিবি নিহত

রংপুর অফিস   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রংপুরের পীরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এই ব্যক্তি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা ছিনতাইয়ের মামলার আসামি।

গতকাল মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার চণ্ডীপাড়া এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

নিহত হুমায়ুন কবির (৩৬) বরিশালের ডেকুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল সাত্তারের ছেলে। উল্লেখ্য, চলতি মাসে গতকাল পর্যন্ত র‍্যাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সাতজন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনই ডাকাত বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে পীরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে ১৩ লাখ টাকা তোলেন উপজেলার ছোট উজিরপুর গ্রামের দুলা মিয়ার ছেলে হাফিজুর রহমান। পেশায় ব্যবসায়ী হাফিজ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পীরগঞ্জ-খালাশপীর সড়কের বাহাদুরপুর এলাকায় পৌঁছলে একটি মাইক্রোবাস তাঁর গতিরোধ করে। পাঁচ ব্যক্তি নেমে এসে নিজেদের ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে হাফিজকে গাড়িতে তুলে নেয়। তাঁকে অপহরণ করা হচ্ছে বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন দুর্বৃত্তদের পিছু ধাওয়া করে গাড়িসহ পাঁচজনকে আটক করে। কিন্তু অন্য দুজন টাকাসহ পালিয়ে যায়। আটককৃতরা হলো ভোলার দৌলতিয়া এলাকার বাংলাবাজার চালতাতলা গ্রামের মৃত শফিকুর ইসলামের ছেলে সাব্বির আলী (২৪), চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার উত্তর ফতেহপুর গ্রামের নেওয়াজ আলী প্রধানের ছেলে মোহন প্রধান (৩৩), সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল ওয়াহাব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর (৩৮), বরিশালের ডেকুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল সাত্তারের ছেলে হুমায়ুন কবীর (৩৬) ও মাদারীপুরের সিরখাজা এলাকার ইসকান হাওলাদারের ছেলে ইউসুফ হাওলাদার (৩৫)। পরে পুলিশ এসে গাড়ি তল্লাশি করে একটি ওয়্যারলেসসেট, একটি খেলনা পিস্তল, পুলিশের হাতকড়া, এক লাখ টাকা উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, সোমবার গভীর রাতে আটককৃতদের মধ্যে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হুমায়ুনকে নিয়ে পুলিশের একটি দল লুণ্ঠিত টাকা ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য চণ্ডীপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা হুমায়ুনের অন্য সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের গুলিবিনিময়ের সময় হুমায়ুন গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ বলছে, হুমায়ুন কবির দুর্বৃত্ত দলটির প্রধান ছিল। তারা ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

পীরগঞ্জ থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হুমায়ুনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য