kalerkantho


নিতু হত্যাকাণ্ড

চোখের জলে নিতুকে বিদায়

মিলনকে কলেজ থেকে বহিষ্কার

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চোখের জলে নিতুকে বিদায়

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বখাটের ছুরিকাঘাতে নিহত স্কুল ছাত্রী নিতু মণ্ডলের মরদেহ সৎকার করা হয়েছে গত সোমবার। জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন দুপুরে নিতুর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে স্বজনরা। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় শ্মাশানঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। গ্রামজুড়ে এ সময় শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনসহ গ্রামের অনেকেই কাঁদতে থাকে।   

আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিতুকে হত্যার কথা স্বীকার করায় গতকাল মঙ্গলবার বখাটে মিলন মণ্ডলকে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। মিলনের কঠোর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নবগ্রাম হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে উপজেলার অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

নিতু নবগ্রাম হাই স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ত। তার বাড়ি উপজেলার ডাসার থানার নবগ্রাম ইউনিয়নের আইসারকান্দি গ্রামে। মিলনের বাড়িও একই গ্রামে। সে নিতুর ছোট ভাইকে প্রাইভেট পড়াত। পরিবার ও নিতুর সহপাঠীরা জানায়, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে নিতুকে উত্ত্যক্ত করত মিলন। তার প্রেমের প্রস্তাব একাধিকবার ফিরিয়ে দিয়েছে নিতু। তবু পিছু ছাড়েনি মিলন। গত রবিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে নিতুকে বাধা দেয় মিলন। প্রতিবাদ করলে সে ছুরি দিয়ে নিতুর পেট ও পিঠে আঘাত করে। একের পর এক আঘাতে নিতু পাশের খালে পড়ে যায়। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে মিলন দ্রুত পালিয়ে যায়। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যায় নিতু। পরে স্থানীয় লোকজন মিলনকে ধাওয়া করে একটি বিলের মধ্য থেকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। গতকাল আদালতে নিতুকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মিলন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডাসার থানার এসআই বায়েজিদ মৃধা গতকাল বলেন, আসামি (মিলন) হত্যার দায় স্বীকার করেছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিলনের ফাঁসির দাবিতে গতকাল দুপুরে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজেলার শিকারমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে বক্তরা বলেন, নিতু হত্যাকারী মিলনের সঠিক বিচার হলে আর কোনো ছাত্রীকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হবে না।  

মিলনের ছাত্রত্ব বাতিল : নিতুকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ায় মিলনকে বহিষ্কার করেছে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ায় কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি গতকাল জরুরি সভা ডেকে কলেজ থেকে মিলনকে বহিষ্কার করে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাকিলুর রহমান সোহাগ তালুকদার বলেন, হত্যাকাণ্ডের মতো ঘৃণ্য ঘটনায় জড়িত থাকায় কলেজ কমিটি, শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


মন্তব্য