kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রৌমারীতে দম্পতি খুন

আসামির নাম বাদ!

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আসামির নাম বাদ!

শিল্পী খাতুন, গোলাম হোসেন

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দম্পতি খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহার থেকে এক আসামির নাম বাদ দিতে পুলিশ বাদীকে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

গত রবিবার রাতে রৌমারীর বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইটকামারী গ্রামে ঘরে ঢুকে শিশু সন্তানের সামনে কুপিয়ে গোলাম হোসেনকে এবং শ্বাসরোধে তাঁর স্ত্রী শিল্পী খাতুনকে হত্যা করা হয়। পরদিন সোমবার সকালে তাঁদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন রাতেই নিহত শিল্পীর বাবা আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে রৌমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন একই গ্রামের শরীয়ত উল্যাহর ছেলে আব্দুল আউয়াল (২৮) ও শামছুল হক (২৭), কালু শেখের ছেলে সানা উল্লাহ (২৬) ও আবুল হোসেনের ছেলে মাজম আলী (২৬)। তবে গতকাল পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

আব্দুস ছাত্তার অভিযোগ করেন, আরেক আসামি কামরুল ইসলামের নাম এজাহারে দিতে চাইলেও পুলিশ সেটা বাদ দিতে বাধ্য করেছে। কামরুলের বাবা আব্দুল কাদের বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। বাদী বলেন, কামরুলের নাম বাদ দেওয়ার পরই কেবল পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে। তাঁর অভিযোগ, আব্দুল কাদেরের প্রভাবের কারণে কামরুলের নাম বাদ দিতে পুলিশ তাঁকে বাধ্য করেছে।

আব্দুল কাদের তাঁর ছেলে গোলাম-শিল্পী দম্পতি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে থাকে রংপুরে। ঈদের পরের দিনই রংপুরে চলে গেছে সে। সে তো রৌমারীতে নাই। মিথ্যাভাবে তাকে কেন জড়ানো হবে। ’

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আগের অভিযোগে নাম থাকলে কী হবে। আমার ছেলে ভালো হয়ে গেছে। এলাকার কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। ’

উল্লেখ্য, গত ২২ জুন শিল্পী খাতুন রৌমারী থানায় পাঁচ বখাটের বিরুদ্ধে তাঁকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেন। এই পাঁচজনের মধ্যে কামরুলও ছিলেন। পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে ২৮ জুন শিল্পী কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।


মন্তব্য