kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঘর থেকে স্ত্রীর লাশ উদ্ধার, গাসিক কাউন্সিলর পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঘর থেকে স্ত্রীর লাশ উদ্ধার, গাসিক কাউন্সিলর পলাতক

নুশরাত জাহান টুম্পা

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়ার স্ত্রী নুশরাত জাহান টুম্পার (২৮) লাশ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল সোমবার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনার পর থেকে সন্ধান মিলছে না কাউন্সিলর সোলায়মানের। টুম্পার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বজনরা অভিযোগ করেছে, উত্তরার বাসায় স্বামীর নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এরপর ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়েছেন সোলায়মান।

স্বজনরা জানায়, গাজীপুরের কাশিমপুরের হাজি নুরুল ইসলামের ছেলে সোলায়মান মিয়ার সঙ্গে ১২ বছর আগে বিয়ে হয় নুশরাত জাহান টুম্পার। টুম্পার বাবা নজরুল ইসলাম সাবেক কোনাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সোলায়মান মিয়া বর্তমানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী। সোলায়মান-টুম্পা দম্পতির বসবাস রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে। কয়েক বছর আগে সোলায়মান মাদক ও পরনারীতে আসক্ত হয়ে

পড়লে শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। নাফি (৮) নামে তাঁদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে।

রবিবার বিকেলে ভাই সাঈদের সঙ্গে টুম্পাসহ পরিবার সদস্যরা ঘুরতে বের হয়। সন্তানসহ সোলায়মানও সঙ্গে ছিলেন। গাড়িতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় এক নারীর ছবি নিয়ে। রাতে সোলায়মান ও টুম্পা বাসায় ফিরলেও সন্তান নাফি মামার সঙ্গে নানার বাসায় চলে যায়। সকালে কাজের বুয়া বাসায় দরজা বন্ধ পেয়ে টুম্পার মাকে ফোন করেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা টুম্পার সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে বাসায় পৌঁছে। জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তারা খাটের ওপর টুম্পাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। দ্রুত তাকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় টুম্পার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বাবা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ররিবার রাতে টুম্পাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর সোলায়মান বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই শাহেদ পারভেজ জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালচে দাগ রয়েছে। ঘটনাটি হত্যা কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে কাউন্সিলর সোলায়মান মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। স্বজনরা কেউ তাঁর সন্ধান বলতে পারছে না।


মন্তব্য