kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘হেলথ কেয়ার’ রোবট আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫ কেজি ওজনের একটি হেলথ কেয়ার রোবট আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ সময় গোয়েন্দা ও নেটওয়ার্কিং ডিভাইসসহ আরো কিছু সন্দেহজনক পণ্য আটক করা হয়েছে।

এসব আমদানিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যথাযথ অনুমতি নেয়নি বলে জানা গেছে। খেলনা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া এসব মালামাল ৮ সেপ্টেম্বর এয়ারফ্রেইটের ১ নম্বর গেট দিয়ে খালাসের চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন চালানটি আটক করে গতকাল সোমবার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে।

শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে জানান, একটি চালানের ৩২৫ কেজি ওজনের ২৪টি কার্টন জব্দ করা হয়েছে। এতে ১২০টি স্মার্ট ওয়াচ (সিম স্লট সংযুক্ত), ১০টি মিনি ডিজিটাল ও ২৫টি পেন ক্যামেরা (গোয়েন্দা ডিভাইস), ৬৩টি ইথারনেট সুইচ, ২৫টি অ্যান্টেনা, ১৯টি বেইজ স্টেশনসহ বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্কিং সামগ্রী রয়েছে। চালানটি ঢাকা কাস্টম হাউসের বিল অব এন্ট্রি নম্বর ৬৯৬৯৯৯-এর মাধ্যমে খালাসের চেষ্টা করা হয়। আমদানিনীতি অনুযায়ী এ ধরনের রোবট মেডিক্যাল ডিভাইস হিসেবে ওষুধ প্রশাসনের এবং নেটওয়ার্কিং ডিভাইস বিটিআরসির অনুমোদন ছাড়া আমদানিযোগ্য নয়। এসব সামগ্রী অনুমোদন ছাড়া নিয়ে আসার কারণে এগুলো অবৈধ কাজে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র জানায়, রোবটের প্যাকেটে লেখা আছে ‘হেলথ কেয়ার রোবট’। এতে রিমোট কন্ট্রোলসহ ক্যামেরা ও মিউজিক বক্স সংযুক্ত রয়েছে। এই রোবট উন্নত দেশে মেডিক্যাল সেবায় ব্যবহৃত হয়। তবে এর অপব্যবহার রোধে যেকোনো মেডিক্যাল ডিভাইস আমদানির আগে ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এসব পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো অনুমতি নেয়নি। অন্যদিকে যেসব নেটওয়ার্কিং ডিভাইস আটক করা হয়েছে সেগুলো ইন্টারনেট সার্ভিস প্রদানে ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের ডিভাইস আমদানির জন্য বিটিআরসির অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও তা মানা হয়নি।

কাস্টমস মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস দিয়ে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের বাইরে যেকোনো ধরনের অঘটনের আশঙ্কা আছে। যারা এসব ডিভাইস এনেছে, তারা যেমন ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারে, তেমনি খারাপ কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে আমদানীকৃত প্রতিষ্ঠানের সঠিক উদ্দেশ্য জানা যায়নি। আটক রোবট উন্নত দেশে মেডিক্যাল সেবায় ব্যবহৃত হয়, কিন্তু বাংলাদেশে এটি ব্যবহারে দক্ষ লোক নেই। এটি অবৈধ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া এসব পণ্য আমদানি ও খালাসের চেষ্টা করায় মালামাল আটক করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিল অব এন্ট্রি অনুযায়ী এসব মালামালের আমদানিকারক চট্টগ্রামের মেসার্স গ্লোবাল কমিউনিকেশন্স। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল মেসার্স কুম ট্রেডার্স। চালানটি চীন থেকে ইওয়াই ৯৬০ কার্গো বিমানযোগে ঢাকায় আনা হয়।


মন্তব্য