kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৌদি শ্রমবাজার খোলায় বাড়ছে পাসপোর্টের চাহিদা

সার্ভারের ক্ষমতা বাড়াতে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ওমর ফারুক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সৌদি শ্রমবাজার খুলে যাওয়ায় হঠাৎ করেই পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায়। আর শ্রমিকরা যাতে সময়মতো পাসপোর্ট পেতে পারেন সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একই ধারাবাহিকতায় সার্ভারের ক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। জানা গেছে, পাসপোর্ট প্রিন্ট করতে গিয়ে গত জুনে বেশ জটিলতায় পড়তে হয়েছিল পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে। সার্ভারে এক কোটি পাসপোর্টের তথ্য রাখার সুযোগ থাকলেও রাখা হয়েছিল দেড় কোটির তথ্য। অতিরিক্ত তথ্য রাখায় সার্ভার কাজ করছিল না ঠিকমতো। এ অবস্থায় সম্প্রতি সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে জনবল নেবে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত এ চাহিদা সামাল দিতে সার্ভারের সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত রবিবার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমিগ্রেশন উইং) অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাসপোর্টের চাহিদা বেড়েছে। সার্ভারের সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। বিপুল চাহিদা মেটাতে কাজ করে যাওয়া হচ্ছে। এখন আর পাসপোর্ট পেতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করছি। ’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত আগস্টে বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সৌদি আরব। দীর্ঘ সাত বছর পর সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের জন্য বহুল প্রত্যাশিত এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।  

সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে সৌদি আরবের চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি, নির্মাণসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকছে না। দক্ষ ও অদক্ষ—সব ধরনের বাংলাদেশি কর্মীরা সৌদি আরবে কাজের জন্য ভিসার আবেদন করতে পারবেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বিদেশি জনশক্তি পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একইভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের জন্যও সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন খাতেও গতি ফেরার আশা করা হচ্ছে।

এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকে পাসপোর্ট করার হিড়িক পড়েছে। এরই মধ্যে প্রতিদিন আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পাসপোর্টের জন্য আবেদনপত্র জমা পড়ছে। সামনের দিনগুলোতে পাসপোর্টের চাহিদা আরো বাড়বে বলে মনে করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাসপোর্টের অভাবে কোনো শ্রমিক যাতে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত না হন সে জন্য গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।  

গত জুনে ১৫ দিন ধরে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভারে সমস্যা ছিল। ওই সময় মাঝেমধ্যে সার্ভার কাজ করলেও বেশির ভাগ সময় অকেজো ছিল। ফলে মেশিন রিডেবল (এমআরপি) পাসপোর্ট প্রিন্ট দিতে অনেক সমস্যা হয়েছে সে সময়। ফলে একদিকে যেমন পাসপোর্ট প্রার্থীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছিলেন, তেমনি পাসপোর্ট অফিসের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারীদেরও নাজেহাল হতে হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আগের চিত্র দেখা যায়নি। পাসপোর্ট প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা ঠিক সময়ই পাসপোর্ট পেয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মী কালের কণ্ঠকে জানান, এখন ঠিকমতো কাজ করা যাচ্ছে। সৌদি আরবে লোক নেওয়ার বিষয় জানার পর থেকেই পাসপোর্টের চাহিদা বেড়েছে। যদি এখনই সার্ভারের ক্যাপাসিটি না বাড়ানো হয়, তাহলে আগের মতো সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়। বর্তমানে যে চাহিদার সৃষ্টি হচ্ছে তাতে দিনে ২০ থেকে ২৫ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা লাগতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, বর্তমানে ২০ লাখ পাসপোর্টের বই রয়েছে। চাহিদা বাড়লেও বইয়ের সংকট হবে না। সার্ভার ঠিকমতো কাজ করলে সব চাহিদাই পূরণ করা যাবে।


মন্তব্য