kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঘুমের সমস্যা দূর যেভাবে

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঘুমের সমস্যা দূর যেভাবে

১. ওষুধ নয়

কৃত্রিমভাবে ঘুম আনার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকেই ঘুমের ওষুধ সেবন করে। যদিও এটি নানা কারণে ক্ষতিকর।

এ ছাড়া একবার ঘুমের ওষুধে অভ্যস্ত হয়ে গেলে তা বাদ দেওয়াও কঠিন। তাই ঘুমের ওষুধ থেকে দূরে থাকা উচিত।

২. ক্যাফেইন বাদ

চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইনের কারণে অনেকেরই ঘুম হয় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্যাফেইন বাদ দিতে হবে কিংবা সীমিত করতে হবে। তবে কেউ যদি ক্যাফেইন বাদ দিতে না পারে তাহলে অন্তত বিকেল থেকে ক্যাফেইন গ্রহণ বাদ দিতে হবে। তাতে যদি সমস্যা না যায় তাহলে দুপুরের খাবারের পর থেকেই ক্যাফেইন গ্রহণ করা যাবে না।

৩. নীল বাতি নয়

ঘুম আসতে বাধাস্বরূপ কাজ করে নীল আলো। মূলত নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য মানুষের ঘুম দূর করে দেয়। এ ক্ষেত্রে আপনার কক্ষে যদি নীল বাতি থাকে তাহলে তা ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগেই বন্ধ করুন এবং ক্রিম বা হালকা লাল বাতি জ্বালান। এ ছাড়া আপনার কক্ষের টিভি, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও অন্য যেকোনো মনিটর থেকেও নীল আলো বিচ্ছুরিত হতে পারে। তাই আগেই এগুলো বন্ধ করুন।

৪. প্রতিদিন একই সময়ে উঠুন

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ুন। এ জন্য প্রথম কয়েক দিন ঘুম আসতে যদিও দেরি হয় তার পরও নির্দিষ্ট সময়ে উঠে পড়ুন। এতে ঘুমের একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস গড়ে উঠবে আর সময়মতো ঘুমও চলে আসবে।

৫. প্রতিদিনই নিয়ম মানুন

অনেকেই সপ্তাহান্তে কিংবা ছুটির দিনে ঘুমের অনিয়ম করে। ছুটি পেয়ে অনেকে বেশি করে ঘুমিয়ে নেয় কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে একেবারেই ঘুমায় না। তবে আপনার যদি ঘুমের সমস্যা থাকে তাহলে উভয় বিষয়ই ক্ষতিকর। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিত।

৬. আপনার ঘুমকে জানুন

প্রত্যেকেরই ঘুমের নিজস্ব ধরন রয়েছে। আপনার নিজের ঘুমের সঠিক ধরনটি জেনে নিন। কোন পরিবেশে আপনার ভালো ঘুম হয় এটি যেমন জানা প্রয়োজন তেমনি প্রতিদিন আপনার কতক্ষণ ঘুমালে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ হয়, তাও জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, শরীর সুস্থ রাখার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমের প্রয়োজন হয়। আর আপনার ঘুম যদি এ থেকে কম হয় তাহলে ধীরে ধীরে ঘুমের মাত্রা এ সময়ের মধ্যে নিয়ে আসুন।

৭. কিছুক্ষণ আগে কাজ বন্ধ

ঘুমের আগে আপনার কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত। স্মার্টফোন, ট্যাব কিংবা কম্পিউটারে পড়ার অভ্যাস থাকলে তা ঘুমের আগে কিছুক্ষণ বন্ধ রাখুন।

৮. ব্যাঘাতগুলো চিহ্নিত করুন

যেসব কারণে আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে, সেসব কারণ চিহ্নিত করুন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। যদি রাস্তার বাতির আলো আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় তাহলে ঘরে ভারী পর্দা লাগান। আশপাশে যদি উচ্চশব্দ হয় তাহলে ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করুন। মোবাইল ফোনে অযাচিত কল এলে সেটি আগেই সাইলেন্স করে রাখুন। ঘুমের আগে বেশি পান করা বাদ দিন।

৯. মেডিটেশন

মেডিটেশনের মাধ্যমে মন শান্ত হয়। এতে ভালো ঘুম আনা যায় এবং ঘুমের মানও উন্নত করা যায়। এ জন্য আপনি চাইলে প্রতিদিন ২০ থেকে ৪০ মিনিট মেডিটেশন করতে পারেন। এতে আপনার ঘুমের সমস্যা দূর হতে পারে।

হাফিংটন পোস্ট অবলম্বনে ওমর শরীফ পল্লব


মন্তব্য