kalerkantho


রাজীব গান্ধী নামের আরেক জঙ্গিকে খুঁজছে পুলিশ

‘গুলশান হামলার আগে অর্থ ও অস্ত্র আসে বিদেশ থেকে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও অর্থ বিদেশ থেকে এসেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। গতকাল সোমবার দুপুরে ডিএমপির জনসংযোগ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

মনিরুল ইসলাম জানান, গুলশান ও শোলাকিয়ার ঘটনার আগে একসঙ্গে ১৪ লাখ টাকা আসে বিদেশ থেকে। এ অর্থ জঙ্গিরা অস্ত্র সংগ্রহ ও বাসা ভাড়ার পেছনে খরচ করে। অর্থ আসে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ থেকে। আর সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র আনা হয়। দেশে ওই অর্থ কে গ্রহণ করেছিল তাও জানা গেছে। এখন তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মনিরুল ইসলাম জানান, নব্য জেএমবির কমান্ডিং পর্যায়ের চারজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ভারতে পালিয়ে গেছে। তারা হলো শরিফুল ইসলাম খালিদ ওরফে রিপন ও খোকন। এ ছাড়া মারজান ও রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ গান্ধী ওরফে গান্ধী ওরফে আদিল নব্য জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

 

নব্য জেএমবির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শক্তি খর্ব করা হয়েছে উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে চারটি ঘটনায় সংগঠনটির কমান্ডিং পর্যায়ের নেতা, সমন্বয়কারী ও প্রশিক্ষক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কল্যাণপুরের অভিযানে চারজন কমান্ডিং পর্যায়ের নেতা, মিরপুরের রূপনগরে প্রশিক্ষক জাহিদুল ইসলাম, জঙ্গিদের বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া করে দেওয়ার সমন্বয়কারী তানভীর (করিম) এবং মূল সমন্বয়কারী তামিম চৌধুরী।

আজিমপুরের তিন নারী জঙ্গির পরিচয় পাওয়া গেছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, সেখান থেকে উদ্ধার করা দুই শিশুকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া করিমের কিশোর ছেলেকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রাজীব গান্ধীকে খোঁজা হচ্ছে : গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মূল হোতাদের মধ্যে এত দিন তামিম চৌধুরী, মেজর (বরখাস্ত) জিয়া ও নুরুল ইসলাম মারজানকে শনাক্তের কথা বলেছিল পুলিশ। তবে গতকাল গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় রাজীব গান্ধী নামে জড়িত আরেকজনের কথা জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অন্যদের মতো রাজীব গান্ধীও গুলশান-শোলাকিয়া হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। রাজীবসহ গুলশান হামলার অপারেশনাল কমান্ডার মারজান ও আরেক জঙ্গি বাশারুজ্জামান দেশের মধ্যেই আত্মগোপন করে আছে বলে তাঁদের ধারণা। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজীব সারা দেশে অন্তত ৩২টি হামলার ঘটনায় জড়িত। সে উত্তরাঞ্চলের জঙ্গি কমান্ডার হিসেবে কাজ করত। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার জন্য তাকে কাজে লাগায় শীর্ষ জঙ্গি নেতারা।

রাজীবের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে উত্তরবঙ্গের কোথাও সে আত্মগোপনে থাকতে পারে। ’

সাইফুল-জাকিরের সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ : গুলশান হামলার পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে জেএমবি সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ। তবে অভিযানে সাইফুল চৌকিদার নামের হলি আর্টিজান বেকারির এক পাচকও নিহত হন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তারের পর হাসপাতালে মারা যান বেকারির কর্মী জাকির হোসেন। এ দুজন জঙ্গি দলের সদস্য কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম।

ঘটনার পরপরই সাইফুল জঙ্গি নন বলে তাঁর পরিবার দাবি করলেও গুলশান হামলার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়। এজাহারে বলা হয়, সাইফুল হামলাকারীদের সঙ্গে থেকে তাদের সহায়তা করেন।

সাইফুলের জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে গতকাল মনিরুল জানান, পুলিশ এখনো বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি। তাঁর সম্পৃক্ততা নেই, এটা বলা যাবে না। সম্পৃক্ততা আছে—সুনির্দিষ্ট করে এটাও বলার সময় আসেনি। এখনো বিষয়টি তদন্তাধীন।


মন্তব্য