kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যশোর থেকে ঢাকা

ঈদের ফিরতি যাত্রায় বেশি ভাড়া গুনছে যাত্রীরা

ফখরে আলম, যশোর   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদের ফিরতি যাত্রায় বেশি ভাড়া গুনছে যাত্রীরা

ঈদের ফিরতি যাত্রায় যশোর-ঢাকা বাসভাড়া ১০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করে যাত্রীদের কাছ থেকে এভাবেই হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি টাকা। কিন্তু দেখার কেউ নেই। ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রী বেড়ে যাওয়ার কারণে এ সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন বাস মালিকরা। ঢাকা থেকে ঈদের আগে যশোর আসার সময় একইভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছিল। শুধু যশোর নয়, খুলনা, বেনাপোল ও সাতক্ষীরার যাত্রীদের কাছ থেকেও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগে সোহাগ পরিবহনের যশোর থেকে ঢাকা নরমাল চেয়ার কোচের ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা। এখন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪৭০ টাকা। এসি কোচের ভাড়া ছিল এক হাজার টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ১০০ টাকা। গ্রিন লাইন পরিবহনের এসি বাসের ভাড়া ছিল এক হাজার টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা। ঈগল পরিবহনের চেয়ার কোচের ভাড়া ছিল ৪৮০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ৬২০ টাকা। এক হাজার ২০০ টাকার এসি বাসের টিকিটের দাম বাড়িয়ে এক হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে।

বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, রুট পারমিটে বাসভাড়া উল্লেখ করে দেওয়া হয়। বাসের সরকার নির্ধারিত প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া হচ্ছে এক টাকা ৪২ পয়সা। সে ক্ষেত্রে বেনাপোল থেকে ঢাকা ২৫০ কিলোমিটারের ভাড়া ৩৫৫ টাকা। এসি বাসের ভাড়া এর দ্বিগুণ হতে পারে। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে চার গুণ। ঢাকা বিশ্বদ্যািলয়ের ছাত্র রাজনুর প্রিন্স। বাড়ি যশোর। তিনি অতিরিক্ত দামে ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘এ কেমন দেশ! ঈদের আগে-পরে অন্যায়ভাবে আমাদের গলা কাটা হলো। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নীরব। ভাড়া বৃদ্ধির এই নাটক কি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে আছে?’

যশোর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী টুলু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে—এটি খুবই অন্যায় ও অমানবিক। আমরা এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। ’ এ ব্যাপারে গ্রিন লাইন পরিবহনের যশোর কাউন্টারের কর্মী ফারুক বলেন, ‘আমরা বেশি ভাড়া নিচ্ছি না। লাস্ট স্টপেজ থেকে লাস্ট স্টপেজ পর্যন্ত, অর্থাৎ যশোর থেকে উঠলেও খুলনা থেকে ঢাকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। ’ সোহাগ পরিবহনের বেনাপোলের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা থেকে খালি গাড়ি আসছে। তাতে কম্পানির লোকসান হচ্ছে। এ জন্য টিকিটপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বাড়তি ভাড়া নেওয়া হবে। ’ জানা যায়, যশোর অঞ্চল থেকে ১০টি পরিবহনের শতাধিক এসি ও নন-এসি বাস প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এই হিসাবে যাত্রীপ্রতি গড়ে ২০০ টাকা ভাড়া বেশি নেওয়া হলে দুই সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রায় কোটি টাকা বাড়তি আদায় করা হচ্ছে। যশোর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাসের প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া এক টাকা ৪২ পয়সা। সেই হিসেবে বেনাপোল ঢাকার ভাড়া ৩৫৫ টাকা। এর চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করার কথা নয়। আমি বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে কথা বলব। ’


মন্তব্য