kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিক্ষক নিয়োগে খাবি খাচ্ছে এনটিআরসিএ

শরীফুল আলম সুমন   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শিক্ষক নিয়োগে খাবি  খাচ্ছে এনটিআরসিএ

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ গত ২২ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুসারে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির বদলে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে।

কিন্তু এ দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছে তারা।

১৫ হাজার পদের জন্য গত জুলাই মাসে ১৩ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়ে। কিন্তু নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে পারছে না এনটিআরসিএ। দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। এক বছর ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট চরমে পৌঁছেছে। ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া। আগে শিক্ষক নিয়োগ দিত স্কুল ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি। তাদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে অদক্ষ শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য একেকজনকে দিতে হতো পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা। এ জন্যই বিধিমালা সংশোধন করে এনটিআরসিএর কাছে নিয়োগের ক্ষমতা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সবাই এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়। কিন্তু বিপুলসংখ্যক আবেদনপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছে এনটিআরসিএ।

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান এ এম এম আজহার বলেন, ‘১৩ থেকে ১৪ লাখ আবেদনপত্রের ডাটা প্রসেসিংয়ে সময়ের দরকার। দিনক্ষণ মেপে আমরা বলতে পারব না কবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হবে। ’

সূত্র জানায়, গত জুনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে শিক্ষকের চাহিদার তথ্য নেয় এনটিআরসিএ। জুলাইয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র চাওয়া হয়। ১৫ হাজার পদের জন্য ১৩ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়ে। দেড় মাস ধরে আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই চলছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই রকম সফটওয়্যার ব্যবহৃত হওয়ার কথা। ওই সফটওয়্যার সাত-আট দিনের মধ্যে ৩০ লাখের বেশি আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে ফল দিতে পারে। অথচ এনটিআরসিএতে আবেদনপত্র জমা পড়েছে মাত্র ১৩ লাখ। এর পরও দেড় মাস ধরে তাদের যাচাই-বাছাই চলছে।

সূত্র জানায়, এনটিআরসিএর কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে প্রক্রিয়া শেষ হতে এত সময় লাগছে। প্রথমবারের মতো তারা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট হয়েছে। এর চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের কেউ আগে এ ধরনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কলেজে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বুয়েটের সহায়তা নেওয়া হয়। এ নিয়োগের কাজে আইটি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া উচিত ছিল। তাহলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হতো।

এনটিআরসিএর পরিচালক মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। ১৩ লাখ আবেদনকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। ভুল হলে বড় সমস্যা তৈরি হবে। চেষ্টা করছি চলতি মাসেই যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে। ’

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের চাহিদার তথ্য চেয়েছে এনটিআরসিএ। যেসব স্কুল এমপিওভুক্ত নয়, তারাও চাহিদা জানিয়েছে। আবার প্রার্থীরা না বুঝে এমপিওভুক্ত নয় এমন অনেক স্কুলের জন্য আবেদন করেছেন। এখন পর্যন্ত দ্বাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষ হয়েছে। উত্তীর্ণ প্রার্থী প্রায় সাড়ে চার লাখ। তাঁদের তিন লাখেরও বেশি জনের এখনো চাকরি হয়নি। দশম নিবন্ধন পর্যন্ত সনদের মেয়াদ ছিল আজীবন। ফলে একজন প্রার্থীর ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চাকরি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু একাদশ নিবন্ধন থেকে মেয়াদ মাত্র তিন বছরের। ত্রয়োদশ নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এবার থেকে যতগুলো পদ শূন্য থাকবে ততজনকে উত্তীর্ণ করা হবে। তাহলে দ্বাদশ নিবন্ধন পরীক্ষা পর্যন্ত উত্তীর্ণরা কি আর চাকরির সুযোগ পাবেন না? এ ধরনের নানা জটিল হিসাব-নিকাশে পড়েছে এনটিআরসিএ।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও রাজধানীর মিরপুরের সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, অনেক স্কুলে গণিত ও ইংরেজির শিক্ষকের পদ আট-দশ মাস ধরে শূন্য রয়েছে। সাধারণ বিষয়গুলো অন্য শিক্ষকরা পড়াতে পারলেও গণিত বা ইংরেজি সব শিক্ষক পড়াতে পারেন না। কোথাও খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনোমতে কাজ চলছে। পড়ালেখা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আবেদনকারীরাও উত্কণ্ঠায় রয়েছেন। সাইফুল ইসলাম নামের এক প্রার্থী বলেন, ‘নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জটিলতা রয়েছে। ফল দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আমরা কত দিন অপেক্ষা করব?’ তিনি বলেন, ‘যদি উপজেলা কোটায় নেওয়া হয়, তাহলে আগেই কেন উপজেলা মেধাতালিকা প্রকাশ করা হলো না? আমি ১০টি আবেদন করেছি। প্রতিটিতে ১৮০ টাকা খরচ হয়েছে। উপজেলা মেধাতালিকা জানা থাকলে এত টাকা খরচ হতো না। ’


মন্তব্য