kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ধর্ষণের পর কিশোরীর আত্মহত্যা

পরিবারকে মীমাংসায় রাজি করানোর চেষ্টা গ্রাম্য মাতবরদের

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পরিবারকে মীমাংসায় রাজি করানোর চেষ্টা গ্রাম্য মাতবরদের

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ধর্ষণের পর এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা মিটিয়ে ফেলতে পরিবারকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন গ্রাম্য মাতব্বররা। ওই কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে সাদুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শান্তিরঞ্জন মল্লিক ও স্থানীয় চল বল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরায়ণ চন্দ্র সরকার মীমাংসার প্রস্তাব দেন।

তাঁরা এক আসামিকে মামলা থেকে বাঁচাতে কিশোরীর বড় চাচা জ্যোতিন্দ্রনাথ সরকারের কাছ থেকে ৩০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে সইও নিয়েছেন।

জ্যোতিন্দ্রনাথ সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেম্বার শান্তি ও শিক্ষক নারায়ণ আমাকে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেয় এবং ধর্ষক পলাশের বড় ভাই লিটন সরকারকে মামলা থেকে বাদ দিতে ৩০০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নিয়েছে। তারা এলাকার মাতব্বর তাই স্বাক্ষর দিয়েছি। ’

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমি যেটা জেনেছি, এটা আত্মহত্যার ঘটনা। যেহেতু বংশীয় ব্যাপার তাই আমি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছি। আর এই বিষয়টি নিয়ে পরে আর যাতে কোনো ঘটনার জন্ম না হয় সে জন্য মেয়েপক্ষের মুরব্বি জ্যোতিন্দ্রনাথ সরকারের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছি। ’ তিনি এমন কাজ করতে পারেন কি না জানতে চাইলে নারায়ণ চন্দ্র বলেন, ‘আমি উভয়ের ভালোর জন্য এই প্রস্তাব দিয়েছি বা স্বাক্ষর নিয়েছি। ’

সাদুল্লাহপুর ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শান্তিরঞ্জন মল্লিক বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি নারায়ণ বাবুর সাথে ছিলাম। আমি বলেছি—এটা আপনার বংশের ব্যাপার, যদি মীমাংসা করতে পারেন তাহলে আমাদের কোনো অপত্তি নেই। এ সময় তিনি একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন। ’

ওই কিশোরী ও অভিযুক্ত ধর্ষক পলাশ সরকার সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন।

কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. কামরুল ফারুক বলেন, ‘মীমাংসার বিষয়টি আমার জানা নেই। আইন আইনের গতিতে চলবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী মামলাটি সেদিক ধাবিত হবে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। ’

গত শনিবার দুপুরে বিশ্বকর্মা পূজা নিয়ে বাড়ির সবাই ব্যস্ত থাকার সুযোগে পলাশ ঘরে ঢুকে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে লোকজন এসে পড়লে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন লোকজন তাকে ধরে খামারে আটকে রাখে। সবাই যখন পলাশকে নিয়ে ব্যস্ত, তখন কিশোরীটি তার ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। এর আগে বুধবারও পলাশ তার খামারে নিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। তখন স্থানীয় লোকজন পলাশকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরদিন রাতে সালিস বসলে মুরব্বিরা পলাশকে গালাগাল দেন এবং জরিমানা করেন। তখন পলাশের বড় ভাই লিটন সরকার জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সালিস বৈঠক থেকে চলে যান।


মন্তব্য