kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ওষুধ অধিদপ্তরের আপত্তি, তবু বিদেশ থেকে কেনার উদ্যোগ

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

তৌফিক মারুফ   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ওষুধ অধিদপ্তরের আপত্তি, তবু বিদেশ থেকে কেনার উদ্যোগ

কেনাকাটাসংক্রান্ত অনিয়মের জের ধরে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে ২০১২ সালের মাঝামাঝি থেকে প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের মতো জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি। এতে দুই কোটিরও বেশি শিশু দুই দফায় গুরুত্বপূর্ণ ‘এ’ ভিটামিন ক্যাপসুলটি খাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়।

তারপর এ কর্মসূচি আবার চালু হলেও এবার আরেক অনিয়মের ম্যাধমে দুই কোটি ৭০ লাখ ক্যাপসুল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভেঙে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেনার এই উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ইতিমধ্যে কার্যাদেশও দিয়েছে তারা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এতে আপত্তি জানালেও তা আমলে নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও একই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান। বরাদ্দ টাকা হাত ছাড়া হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তারা অবজ্ঞা করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আপত্তিকে। এ নিয়ে দুই সংস্থার মধ্যে এখন চলছে চাপা অসন্তোষ।

আগামী অক্টোবরে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা রয়েছে। কিন্তু দুই সংস্থার রশি টানাটানিতে সে কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।  

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের সর্বশেষ পরিপত্র অনুসারে দেশের স্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে উত্পাদন করলে সে ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবে না। সে অনুসারে এবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টি সেবা কার্যক্রমের আওতায় সরকারিভাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ সংগ্রহ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি নির্দেশনার বরাত দিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান গত ২৭ জুন চিঠি দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম পরিচালক, কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক, জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, আবেদিত (ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল) ওষুধ স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে উত্পাদিত হয় বিধায় ওষুধটি আমদানির জন্য এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেওয়া গেল না। চিঠিতে দেশের সাত প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়, যারা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নামে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল উত্পাদন করে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের আপত্তিপত্র ইস্যুর ঠিক তিন দিনের মাথায় তা উপেক্ষা করেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সিএমএসডি ভারতীয় একটি ওষুধ প্রতিষ্ঠানকে দুই কোটি ৭০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়, দাম ধরা হয় চার কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চাপা অসন্তোষ শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আপত্তি দেওয়ার পরও কিভাবে একই মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করল, এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও চলে নানা গুঞ্জন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম মুজহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেনার জন্য যে টাকা বরাদ্দ ছিল তা ধরে রাখার জন্যই মূলত তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশটি দেওয়া হয়েছে। অর্থবছর শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ওই সময় এ পদক্ষেপ না নিলে এ খাতের টাকা ফেরত যেত। তাই বাধ্য হয়েই ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের আপত্তিকে আমলে নেওয়ার মতো সুযোগ ছিল না। এখন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেনা না গেলে পর্যাপ্ত ওষুধের অভাবে আসন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা যাবে না।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি খুবই খারাপ হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান যদি অন্য প্রতিষ্ঠানের আপত্তিকে উপেক্ষা করে, সেটা বড় অনিয়ম। এর মাধ্যমে মূলত সরকারের আদেশকেই উপেক্ষা করা হয়।


মন্তব্য