kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেরানীগঞ্জে যৌতুক যন্ত্রণা

কেরোসিন ঢেলে আগুন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে বধূ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ব্রাহ্মণকিত্তা এলাকায় যৌতুক না পেয়ে হোসনে আরা আক্তার শারমিন নামের এক সন্তানের মাকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগুনে হোসনে আরার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঘটা ঘটনাটি হোসনে আরার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও গতকাল রবিবার তা ফাঁস হয়ে যায়। ঘটনার পর তাঁর স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়েছে।

গৃহবধূ হোসনে আরার ছোট ভাই মেহেদী হাসান জানান, যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই তাঁর বোনকে নির্যাতন করত। নির্যাতনের হাত থেকে বোনকে রক্ষায় তাঁরা কয়েক দফায় কিছু টাকা-পয়সা দিয়েছেন। সম্প্রতি আবারও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাঁর বোনের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ওই টাকা না দেওয়ায় শনিবার সকালে হোসনে আরার স্বামী জুয়েল, শাশুড়ি জরিনা বেগম, ভাশুর হারুন অর রশিদ, হারুনের স্ত্রী মাহফুজা, হারুনের মেয়ে সুমাইয়া ও তার স্বামী রাজু মিলে তাঁকে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে হোসনে আরার মা মোমেনা বেগম দেখা করতে গেলে তাঁকেও মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির আঙিনায় হোসনে আরার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর চিত্কারে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সূত্রমতে, প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তখন যৌতুক হিসেবে জুয়েলকে টাকা ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়। ওই দম্পতির ১১ বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। সম্প্রতি দুই লাখ টাকা না দিলে জুয়েল অন্যত্র বিয়ে করবে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়। হোসনে আরার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা থানার সোনারচর চেঙ্গারাকান্দি এলাকায়।

হোসনে আরার মা মোমেনা বেগম বলেন, ‘ওরা সবাই মিলে আমার মেয়েকে মারত। মেয়ে মুখ বুজে সব সহ্য করেছে।


মন্তব্য