kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ট্যাক্স ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি দেড় লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ট্যাক্স ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি দেড় লাখ

১৫ হাজার টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধ করতে ঘুষ চাওয়া হয়েছে দেড় লাখ টাকা। অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় ৪০০ বস্তা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক আটকে রাখা হয়েছে ১৪ দিন ধরে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন বগুড়া কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ এ কাজ করেছে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ঈদের আগে যমুনা নদীতে পাবনার নগরবাড়ী ঘাটে ট্রলার থেকে খালাস করা হয় ৪০০ বস্তা হোলসিম সিমেন্ট। সেগুলো ট্রাকে পরিবহনের সময় বগুড়ার বনানী মোড়ে কাস্টমস অফিসের সামনে আটক করা হয়। ট্রাকটি নগরবাড়ী থেকে নওগাঁর দীপক কুমার দেবের প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিল। বগুড়া কাস্টসমের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ট্রাকটি আটক করেন। এই দপ্তর থেকে জানানো হয়, মূসক প্রদানে অনিয়ম ও ফাঁকি দেওয়ার কারণে ট্রাকবোঝাই সিমেন্টগুলো আটক করা হয়েছে।

হোলসিম সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের উত্তরাঞ্চলীয় কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তাঁদের কারখানা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর মেঘনাঘাট থেকে নওগাঁয় পাঠানোর জন্য মোট তিন হাজার ৯০০ বস্তা সিমেন্টের মূসক চালান পরিশোধ করে গত ২৪ আগস্ট। এরপর মেঘনা ঘাট হয়ে একটি ট্রলারে করে সিমেন্টের বস্তাগুলো বহনের সুবিধার্থে নগরবাড়ী ঘাটে নিয়ে আসা হয় ৩০ আগস্ট। ৪ সেপ্টেম্বর একটি ট্রাকে করে প্রথম চালানের ৪০০ বস্তা সিমেন্ট নওগাঁয় পাঠানো হয়। পথে বগুড়ার বনানীতে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ট্রাকটি আটক করেন। এরপর হোলসিম কর্তৃপক্ষ বারবার এই বিভাগে যোগাযোগ করে দ্বিতীয় দফা মূসক প্রদান কিংবা মামলা করার অনুরোধ জানালেও তা করা হয়নি। উল্টো দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন জসিম উদ্দিন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেঘনাঘাট থেকে নওগাঁয় পাঠানোর মূসক চালানে ট্রলার ও ট্রাকে বহন করা হবে এমন কথা উল্লেখ ছিল না। এ কারণে দ্বিতীয় দফা সিমেন্টের মোট মূল্যের ৪ শতাংশ মূসক দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আইনে রয়েছে। সেই হিসাবে এই ৪০০ বস্তা সিমেন্টের দ্বিতীয় দফার মূসক চালান ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু সেই চালান না করে উল্টো দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করায় সেটি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে হোলসিম কর্তৃপক্ষ। এ কারণে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি ফেলে রাখা হয় বগুড়া কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের কার্যালয়ের মধ্যে।

এ বিষয়ে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মূসক ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে ট্রাকটি আটক করা হয়। এরপর কেউ বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য কোনো আবেদনও করেনি। যার কারণে ট্রাক আটকের এক দিন পরেই আমি মামলা করেছি। ’ তবে হোলসিম উত্তরাঞ্চল প্রধান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দফা মূসক দিতে রাজি থাকলেও তারা সেটি গ্রহণ করেনি। আর আমাকে মামলার কোনো কপি কিংবা এ ব্যাপারে অবগত করা হয়নি। উল্টো দাবীকৃত ঘুষ না দিলে পেছনের তারিখে মামলা করে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এদিকে ট্রাক আটক রাখার কারণে প্রতিদিন এর মালিককে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে অতি বৃষ্টির কারণে ট্রাকে রাখা সিমেন্টগুলো ভিজে নষ্ট হতে পারে। ’

বগুড়া কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের ডেপুটি কমিশনার নুর উদ্দিন মিলন বলেন, ‘রবিবার পর্যন্ত মামলা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। যেকোনো কারণে মামলাটি পেছনের তারিখে দায়ের করা হতে পারে। ’ ঘুষ দাবি ও হয়রানির বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।


মন্তব্য