kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৩০ বছর পর ছেলের খোঁজ পেলেন মা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



৩০ বছর পর ছেলের খোঁজ পেলেন মা

মা শৈলবালা

অমল চন্দ্র গোলদারের বয়স তখন ১০ বছর। শিশুটি একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়।

বহু খোঁজাখুঁজি করা হয়েছে। কিন্তু মা শৈলবালার কোলে ফিরে আসেনি সেই শিশু। একপর্যায়ে মা ধরেই নেন যে তাঁর নাড়িছেঁড়া ধন আর বেঁচে নেই। এভাবে কেটে গেছে দীর্ঘ ৩০টি বছর। এরপর হঠাৎই মায়ের কাছে খবর আসে, অমল বেঁচে আছে। সেদিনের শিশুটি আজ ৪০ বছরের যুবক। সন্তানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও বলেছেন অশীতিপর শৈলবালা। এখন বুকে ফিরে আসার অপেক্ষা। মায়ের চোখে এখন সন্তান ফিরে পাওয়ার আনন্দাশ্রু। আর এমনটা সম্ভব করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের নীলকান্ত গোলদার ও শৈলবালা গোলদার দম্পতির ছোট ছেলে অমল কান্তি গোলদার এখন কাতারপ্রবাসী। হারিয়ে যাওয়া সেদিনের শিশুটির দেশ বদলে গেছে। ৩০ বছরে বদলে গেছে ভাষা-সংস্কৃতিও। তবে বদলে যায়নি মাটির টান। এতটুকু কমেনি গর্ভধারিণী মায়ের প্রতি মমত্ববোধ। অবশেষে ৩০ বছর পর ব্যাকুল ছেলে তার মায়ের খোঁজ পেয়ে  যায়। কয়েক হাজার মাইলের ব্যবধানও হার মেনেছে হৃদয়ের টানের কাছে।

তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট অমল পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় ১৯৮৬ সালে নিখোঁজ হয়। শিশুপাচারকারীরা তাকে ভারতে নিয়ে যায়। আর গত ৯ বছর ধরে কাতারপ্রবাসী। সেদিনের শিশু অমল বাস্তবতার নিদারুণ লড়াইয়ে আজ পরিণত একজন মানুষ। এই দীর্ঘ সময়ে তার স্মৃতি থেকে হারিয়ে গিয়েছিল পরিবার, ঘরবাড়ি আর স্বদেশভূমি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাতারপ্রবাসী কুষ্টিয়ার সবুর আলী নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মঠবাড়িয়ার স্থানীয় সংবাদকর্মী জামান আবিরের ফেসবুকে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁদের দুজনের মধ্যে কয়েক দিন আগে বার্তা আদান-প্রদান হয়। এ সময় সবুর তাঁকে জানান, মঠবাড়িয়ার একটি ছেলে কাতারে আছে। তার নাম অমল গোলদার। তবে সে ১০ বছর বয়সে হারিয়ে গিয়েছিল। বাড়িঘর আর পরিবারের বৃত্তান্ত সম্পর্কে সে নিশ্চিত করতে পারছে না। এরপর জামান আবির মঠবাড়িয়ায় অনুসন্ধান চালিয়ে অমলের পরিবারের খোঁজ পান। গতকাল রবিবার তিনি উত্তর মিঠাখালী গ্রামে নীলকান্ত গোলদারের বাড়িতে গিয়ে অমলের বিষয়ে তথ্য দিলে পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে মা শৈলবালার সঙ্গে মোবাইল ফোনে অমলের আবেগঘন কথোপকথন হয়। ওদিকে সন্তান আর এদিকে মা কেঁদে কেঁদে কথা বলেন দীর্ঘ সময়। পরে বাবা নীলকান্ত গোলদারও ছেলের সঙ্গে কথা বলেন।

অমলের মেজ ভাই বিমল গোলদার বলেন, ‘ছোট ভাই হারিয়ে যাওয়ার পর আমরা আর ওর খোঁজ পাইনি। বহু চেষ্টার পরও না পেয়ে পরিবারের সবাই ধরে নিই—অমল হয়তো আর বেঁচে নেই। কিন্তু ঈশ্বর তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। রক্তের ভাইকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ বলে বোঝানোর মতো নয়। আমরা সবাই এখন ওর ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি। ’


মন্তব্য