kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দৌলতদিয়ায় নদীভাঙন

ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক বিলীন

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দৌলতদিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ২ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে।

এ দুই ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি পারাপার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উভয় ঘাটে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

এ নিয়ে গত দেড় মাসে বিভিন্ন সময়ে দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটগুলো মোট ১৫ বার ভাঙনের কবলে পড়ল। এক সপ্তাহ ধরে নদীতে বালু ভরা বস্তা ফেলে ভাঙনের হাত থেকে ফেরিঘাট রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গতকাল রবিবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালের বিশাল পার্কিং ইয়ার্ড উপচে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের ইউনিয়ন বোর্ড এলাকা পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে আছে। ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের অনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মজীবী মানুষ ফের ঢাকায় ফিরছেন। তাই অতিরিক্ত গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি চারটি ঘাটের দুটি বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় শত শত গাড়ি আটকা পড়ে আছে।

দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, পদ্মায় তীব্র স্রোত বইছে। পাশাপাশি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে দৌলতদিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ২ নম্বর ঘাটটি ভাঙনের কবলে পড়ে পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। তখন থেকে এ পর্যন্ত ওই ঘাটটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। এদিকে ভাঙনের কবলে পড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তৈরি পাইলিং ও সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় গত শুক্রবার বিকেল থেকে ৪ নম্বর ঘাটটিও বন্ধ রয়েছে।

এ নিয়ে গত দেড় মাসে বিভিন্ন সময়ে দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটগুলো মোট ১৫ বার ভাঙনের কবলে পড়ে। এর মধ্যে ১ নম্বর ঘাট দুইবার, ২ নম্বর ঘাট পাঁচবার, ৩ নম্বর ঘাট ছয়বার ও ৪ নম্বর ঘাট দুইবার নদীতে বিলীন হয়। বর্তমান চারটি ঘাটের দুটি বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি পারাপার ব্যাহত হওয়ার ফলে দৌলতদিয়া ঘাটে গাড়িগুলো আটকা পড়ে আছে। তবে ১ ও ৩ নম্বর ঘাট দুটি চালু থাকায় তা দিয়ে কোনো রকমে যানবাহন ফেরিতে পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন চলছে। এর মাঝে নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান দুইবার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। তখন নিরাপদ স্থানে নতুন একটি ফেরিঘাট নির্মাণের পাশাপাশি ভাঙনের হাত থেকে ঘাটগুলো রক্ষার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী। অথচ ভাঙন রোধে সময়মতো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।


মন্তব্য