kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চুয়াডাঙ্গায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইউপি সদস্য নিহত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চুয়াডাঙ্গায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইউপি সদস্য নিহত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক স্কুল ছাত্র হত্যার প্রধান আসামি নিহত হয়েছেন। গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে র‌্যাব দাবি করেছে।

নিহত ব্যক্তির নাম রাকিবুল ইসলাম। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য ছিলেন রাকিব।

দামুড়হুদার স্কুল ছাত্র মাহফুজ আলম সজীব অপহরণ ও হত্যা মামলা ছাড়াও রাকিবের বিরুদ্ধে আরো চারটি হত্যা, চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

র‌্যাব-৬-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মনির আহমেদ জানান, শনিবার রাতে র‌্যাবের একটি টহলদল দামুড়হুদা এলাকায় টহলে ছিল। গোবিন্দহুদা গ্রামের মাঠে একদল দুর্বৃত্ত গোপন বৈঠক করছে এমন খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাবের টহলদল সেখানে অভিযান চালায়। তখন দুর্বৃত্তরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। র‌্যাবের দলটিও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এলাকাবাসী মৃত ব্যক্তিকে রাকিব মেম্বার বলে শনাক্ত করেন।

র‌্যাব কমান্ডার আরো জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শ্যুটারগান, দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে রাকিব বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোকদিয়া গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, রাকিব চরমপন্থী দলে আগে সম্পৃক্ত থাকলেও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় মানুষ তাঁকে নির্বাচনে বিজয়ী করেছে। কিন্তু তাঁর চলাফেরা ছিল সন্দেহজনক। বেশির ভাগ সময় এলাকায় না থেকে অন্যত্র অবস্থান করতেন রাকিব।

জানা যায়, গত ২৯ জুলাই দামুড়হুদার ব্রিজ মোড় এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে সজীব অপহৃত হয়। এক মাস পর চুয়াডাঙ্গা শহরের সিএন্ডবি পাড়ার একটি চার্জার লাইট কারখানার সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় তার লাশ। সজীব অপহরণের ঘটনায় অনুসন্ধান শুরু করেন ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা। র‌্যাব রহস্য উদ্ঘাটন করে সজীবের লাশ উদ্ধার করে এবং থানায় রাকিবসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। সেই ঘটনার পর থেকেই রাকিব পলাতক ছিলেন।

অপহৃত স্কুল ছাত্র সজীবের চাচা রফিকুল ইসলাম সজীব অপহরণের পর বলেছিলেন, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। পরে লাশ উদ্ধার হলে এলাকার মানুষ রাকিবের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তাঁর নিহত হওয়ার খবর শুনে গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে দামুড়হুদার ব্রিজ মোড় এলাকার মানুষ মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, আগে থেকেই চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন রাকিব। তাঁর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির পাঁচটি মামলা আছে। তাঁকে ধরার জন্য পুলিশের অভিযানের মুখে রাকিব আত্মগোপন করেছিলেন।

উল্লেখ্য, চলতি মাসে গতকাল পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনই ডাকাত

বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


মন্তব্য