kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বনানীতে রিকশাচালককে গুলি

বাদীর ইচ্ছাতেই জামিন পেলেন যুবলীগ নেতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীতে রিকশাচালককে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা ইউসুফ সরদার সোহেলকে জামিন দেওয়া হয়েছে। বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গতকাল শনিবার তাঁকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু বাদী নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে সোহেলের রিমান্ডে অনাপত্তি দিলে রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাঁকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, বাদী আদালতে হাজির হয়ে জানান, আসামির জামিনে তাঁর আপত্তি নেই। আর এ কারণেই আদালত আসামিকে জামিন দেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম নবীর আদালতে হাজির করার পর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই যুবলীগ নেতাকে জামিন দেওয়া হয়।

এদিকে রিমান্ড আবেদন নাকচ করে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিকে জামিন দেওয়া নিয়ে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে আদালতপাড়ায়। আইনজীবীদের মন্তব্য, যখন তখন অস্ত্র বের করে গুলি চালানোর বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। কিন্তু বাদীকে ব্যবহার করে জামিন নেওয়ার এমন ঘটনা সাধারণত ঘটে না। জামিনে বাদীর আপত্তি না থাকলেও অস্ত্রটি কার, কেনই বা অস্ত্র বের করে গুলি করা হলো তার উত্তর না পেয়ে জামিন দেওয়ায় এ ধরনের অপরাধীরা উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়. গত বৃহস্পতিবার রাতে বনানীর ২ নম্বর সড়কে ভাড়া নিয়ে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে রিকশাচালক কবির উদ্দিনের পায়ে মাতাল অবস্থায় কেউ একজন গুলি করে। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা সোহেলকে গ্রেপ্তার করে বনানী থানার পুলিশ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদীর জামিনে আপত্তি না থাকলে সাধারণত এসব মামলায় জামিন দেওয়া হয়। কিন্তু যেখানে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার রয়েছে, সে ক্ষেত্রে পুরো রহস্য উদ্ঘাটন করার আগেই জামিন পাওয়ার ঘটনাও রহস্যজনক। তিনি বলেন, ‘বাদীকে ম্যানেজ করে যুবলীগ নেতা মুক্তি পেয়ে গেছেন। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটালেও কিছু হবে না বলে তার ধারণা জন্মেছে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে। ’


মন্তব্য