kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘শিক্ষা দিবসে’ বক্তারা

৫৪ বছরেও এগোয়নি শিক্ষাব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেওয়া ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ বাতিল দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ছাত্র-জনতা। কিন্তু সেই আন্দোলনের ৫৪ বছর পার হলেও আশানুরূপভাবে এগোয়নি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা।

এখনো অনেক গলদ ও দুর্বলতা রয়ে গেছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় শিক্ষক-কর্মচারী ফ্রন্ট ও ইনিশিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত শিক্ষা দিবসের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এ সময় বক্তারা ১৭ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় শিক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণার জন্যও সরকারের প্রতি দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, যে জাতি শিক্ষা নিয়ে ৫৪ বছর আগে চিন্তা করেছে, সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আশানুরূপভাবে এগোয়নি। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গলদ, দুর্বলতা ও ভুল রয়েছে। তা না হলে শিক্ষিত মানুষ সত্যিকার অর্থে ভালো মানুষ হচ্ছে না কেন? শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত না হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছে। এরপর তারা জঙ্গি হয়ে এসে মানুষ খুন করছে কেন?

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো জাতীয়ভাবে শিক্ষা দিবস পালিত হয় না। এটা খুবই দুঃখজনক। এখন আর আমরা গৌরবময় ছাত্র আন্দোলন দেখি না। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে অর্জন, এর চেয়ে আমরা আর বেশি দূর এগোতে পারিনি। ’

প্রতিবছরের মতো এবারও আলোচনা সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৭ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক এই শিক্ষা দিবস পালন করেছে কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরেই এই দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানানো হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া নেই। অথচ ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি সামরিক সরকারের চাপিয়ে দেওয়া জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্রসমাজ অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।

আলোচনা সভায় অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি আজিজুল ইসলাম, মহাসচিব মহসীন রেজা, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক প্রমুখ।


মন্তব্য