kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাসান খালেদের মৃত্যুরহস্য

ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষায় ডিবি

ওমর ফারুক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষায় ডিবি

বাসার কাছের দোকান থেকে ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন মো. হাসান খালেদ। চার দিন পর তাঁর লাশ পাওয়া গেল বুড়িগঙ্গায়।

লাশে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ঘটনাটি বেশ রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সে রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছে ডিবি। তবে তদন্তে এখনো উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি নেই।

হাসান খালেদ ডাচ্-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ছিলেন। ব্যবসায়িক কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে কি না জানার চেষ্টা চলছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট হাতে না আসায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ধারণার ওপর ভিত্তি করে তদন্ত চালাচ্ছে।

গত ২৩ জুলাই সকালে হাসান খালেদ ওষুধ কেনার জন্য ধানমণ্ডির ৪/এ রোডের ৪৫ নম্বর বাড়ি থেকে বের হন। আর বাসায় ফেরেননি। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে ওই দিন রাতেই ধানমণ্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর শ্যালক শরিফুল আলম। ২৬ জুলাই দুপুরে কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ থানার মাঝামাঝি খোলামোড়া ঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। দুপুর ১২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা গেল, লাশটি নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাসান খালেদের। লাশে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। জিডির ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

গত ২ আগস্ট ধানমণ্ডি থানায় অজ্ঞাতসংখ্যক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন হাসান খালেদের ভাই মুরাদ হাসান। আট দিন পর মামলাটি ডিবিতে দেওয়া হয়। এখন এটির তদন্ত করছেন ডিবির সাবইন্সপেক্টর নেওয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

সূত্র জানায়, গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করছে ডিবি। ইতিমধ্যে খালেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে তারা। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে ভিসেরা রিপোর্ট হাতে না আসায় জোরেশোরে তদন্ত করা যাচ্ছে না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ভিসেরা রিপোর্টে যদি তাঁকে হত্যার কথা উল্লিখিত হয় তাহলে তদন্ত আরো গতি পাবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নেওয়াজ উদ্দিন আহমেদ গতকাল বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই রহস্যজনক। আমরা ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। ’ তিনি বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ’

সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে লাশে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে ভিসেরা রিপোর্ট জরুরি হয়ে পড়েছে।

একটি সূত্রের দাবি, হাসান খালেদ ঋণগ্রস্ত ছিলেন। তাঁর স্ত্রীও অসুস্থ। এসব কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে তদন্তে।

হাসান খালেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে ভাবিত পুলিশ। তিনি যদি আত্মহত্যাই করবেন তাহলে এত দূরে গিয়ে করতে হবে কেন? আর তাঁকে যদি অপহরণ করে হত্যা করা হয়ে থাকে তাহলে লাশে নির্যাতনের চিহ্ন থাকার কথা। কিন্তু তা নেই।

প্রসঙ্গত, হত্যা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাসান খালেদকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে।

মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের শাস্তি চাই। ’

এদিকে হাসান খালেদকে ছাড়া নিরানন্দ ঈদ কেটেছে তাঁর পরিবারের সদস্যদের। তাঁরা চান, দ্রুত এ মৃত্যুরহস্যের সমাধান ও জড়িতদের বিচার হোক।


মন্তব্য