kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্পিকারদের রুলিং নিয়ে বই ছাপা হবে

সংকলন শেষ পর্যায়ে, চলছে পুনর্নিরীক্ষা

নিখিল ভদ্র   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



স্পিকারদের রুলিং নিয়ে বই ছাপা হবে

বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া স্পিকারদের রুলিংগুলো সংকলনের কাজ প্রায় শেষ। এখন সেগুলো পুনর্নিরীক্ষা করছে সংসদীয় কমিটি।

দ্রুতই এ কাজ শেষে ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ স্পিকারের রুলিং (১৯৭৩-২০১৩)’ নামের বইটি ছাপা হবে।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী স্পিকারের রুলিং হচ্ছে সংসদীয় কাজে সর্বোচ্চ রায়। রুলিং নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। এমনকি রুলিং পুনর্বিবেচনারও সুযোগ নেই। কার্যপ্রণালি বিধির ৩১৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ এবং সংসদের কমিটিসমূহের কার্যাবলি সম্পর্কিত বিষয় হইতে কোনো বিষয় উদ্ভূত হইলে এবং সে সম্পর্কে এই বিধিসমূহে নির্দিষ্ট কোনো বিধান না থাকিলে সে ব্যাপারে স্পিকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন এবং স্পিকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে। ’

বিগত ১০টি সংসদে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন স্পিকার। তবে তা একত্র করে সংরক্ষণ করা হয়নি। ইউএনডিপির অর্থায়নে সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের উদ্যোগে ‘স্পিকারের রুলিং’ নামে একটি বই ২০০০ সালে ছাপানো হলেও ভুল থাকায় তা পুড়িয়ে ফেলা হয়।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে নবম জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হলে ইউএনডিপির অর্থায়নে আবারও একই উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদের আইপিডি প্রকল্পের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ স্পিকারের রুলিং (১৯৭৩-২০০৯)’-এর একটি খসড়া সংসদ সচিবালয়ে জমা দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী খসড়াটির প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের জন্য সংসদ সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (এলএস) মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি এডিটরিয়াল রিভিউ কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি ভারতের লোকসভার রুলিং সংকলন সম্পর্কে সরেজমিনে অভিজ্ঞতা নিয়ে ৫৬টি আনুষ্ঠানিক ও অসংখ্য অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে একটি খসড়া চূড়ান্ত করেছে, যা সংসদীয় কমিটি এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী ও অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ, হুইপ মো. শহীদুজ্জামান সরকার, সরকারদলীয় সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী ও বিরোধীদলীয় সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ স্পিকারের রুলিং (১৯৭৩-২০০৯)’ নামের খসড়া সংকলনটি ২০০৯ পর্যন্ত সময়কালের জন্য প্রণীত হলেও কমিটি নবম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন পর্যন্ত দেওয়া রুলিংগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রতিটি রুলিংয়ের বিষয়ভিত্তিক শিরোনাম থাকছে।

বইটির সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ স্পিকারের রুলিং (১৯৭৩-২০১৩)’ সংকলনটি স্পিকার এবং তাঁর উত্তরসূরিদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হবে। সংকলনটি সংসদ সদস্য, গবেষক ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংসদীয় বিভিন্ন বিষয় নিষ্পত্তিতে রেফারেন্স বা গাইড বই হিসেবে সহায়তা করবে।

সম্পাদনা কমিটির তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলা প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ উল্লাহ ও আবদুল মালেক উকিল স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা এবং রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে স্পিকারের তাঁর দায়িত্ব পালনসহ ছয়টি বিষয়ে রুলিং দেন। ১৯৭৯ সালের ২ এপ্রিল থেকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মেয়াদের দ্বিতীয় সংসদের ছয়টি অধিবেশনে ১৫টি রুলিং দেন স্পিকার মির্জা গোলাম হাফিজ। তৃতীয় সংসদ চলে ১৯৮৬ সালের ১০ জুলাই থেকে ১৯৮৭ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালনকালে শামসুল হুদা চৌধুরী দুটি অধিবেশনে রুলিং দেন পাঁচটি। ১৯৮৮ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী চতুর্থ সংসদে একই স্পিকার হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন অবস্থায় কোনো অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা যায় কি না, সে সম্পর্কে রুলিং দেন।

পঞ্চম সংসদে ৯টি অধিবেশনে রুলিং দেওয়া হয় ১৪টি। ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল থেকে ১৯৯৫ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী এই সংসদে স্পিকার অ্যাডভেকেট রাজ্জাক আলীর দেওয়া অনেক রুলিং ব্যাপক আলোচিত হয়। এর মধ্যে ১৪৭ জন সংসদ সদস্যের একযোগে পদত্যাগ-সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুলিং রয়েছে। বিতর্কিত ষষ্ঠ সংসদে কোনো রুলিং দেওয়া হয়নি।

১৯৯৬ সালের ১৪ জুলাই থেকে ২০০১ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত সপ্তম সংসদের ১১টি অধিবেশনে স্পিকার রুলিং দেন ২৬টি। আর ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত অষ্টম সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার চেম্বার, লবি ও গ্যালারিতে স্ট্রাইকসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩৯টি রুলিং দেন।

নবম সংসদের মেয়াদ ছিল ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পালনকালে মো. আবদুল হামিদ ২৬টি রুলিং দেন। এই সংসদের মেয়াদ থাকা অবস্থায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্পিকার হন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। দশম সংসদেও তিনি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সংসদ অধিবেশনের কার্যবিবরণী চূড়ান্ত না হওয়ায় তাঁর রুলিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য