kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অপহরণ করে স্কুল ছাত্রীকে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অপহরণ করে স্কুল ছাত্রীকে নির্যাতন

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) অপহরণের পর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উদ্ধারের পর বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দুজনকে আসামি করে পরিবারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, স্কুল ছাত্রী উদ্ধারের পর থেকে আসামিরা নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ ছাড়া এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে চাপ দিচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুরের আমগাছি শাহার বানু উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রী গত ২৫ আগস্ট সকালে প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফিরছিল। এ সময় এলাকার উজ্জ্বল ও লালন হোসেন নামের দুই ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে। এরপর তাকে অটোরিকশায় তুলে উপজেলার কাটাখালী এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলার সামনে নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর ওই স্কুল ছাত্রীকে তারা যশোরে নিয়ে যায়। সেখানে অপহরণকারী লালনের বন্ধু রাসেলের ফুফুর বাসায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে।

এদিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে স্কুল ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় লালন ও উজ্জ্বলকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার তিন দিন পর গত ২৮ আগস্ট যশোর থেকে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপর আদালতে পাঠানো হলে ওই ছাত্রী ১২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষা শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে কয়েক দিন পর স্কুল ছাত্রী শারীরিকভাবে আরো অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর আবারও তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর এক দিন পর থেকেই মেয়েটি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। বর্তমানে সে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রামেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ওই স্কুল ছাত্রী বিছানায় শুয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। কোনো সাড়া শব্দ করতে পারছে না। কথা বলতে চাইছে কিন্তু পারছে না। চোখ বেয়ে ঝরছে অশ্রু।

হাসপাতালে স্কুল ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে উদ্ধারের পর থেকেই প্রভাবশালী আসামিরা মোবাইলে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে চাপ দিচ্ছে তারা। আমার মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সে কোনো কথাও বলতে পারছে না। ’


মন্তব্য