kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামপালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রামপালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি

পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের উন্নয়নে ভারত ও চীন যৌথ অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘পায়রা বাংলাদেশের অন্যান্য বন্দর থেকে অনেক ভালো।

আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ভারত ও চীন যৌথ অংশীদারির ভিত্তিতে পায়রা বন্দরের উন্নয়নে কাজ করতে পারে। ’ এদিকে একই অনুষ্ঠানে রামপাল বিদ্যুেকন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বাধীন নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, ভারতবিরোধিতা নয়, সুন্দরবন রক্ষার জন্যই রামপাল নিয়ে সবাই আপত্তি জানিয়ে আসছে।

‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : অর্জিত অগ্রগতি এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সংলাপে অর্থমন্ত্রী গতকাল শনিবার এ কথা বলেন। ডেইলি স্টার ও দি ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (আইপিএজি) যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঞ্চালনায় এ সংলাপে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রজিত মিত্তার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম তামিম, দি এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের ফেলো নিত্য নন্দ, কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির সদস্য পঙ্কজ ট্যান্ডন, আইপিএজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মুনীর খসরু, এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে এটা সহজে বলা যায়, বাংলাদেশ এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেশ। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত হাটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাটগুলোর আকার বড় না করে অনেক জায়গায় ছোট ছোট হাট করা হবে। এ ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। ’

মসিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ১৮টি বাজার আছে। এসব বাজারে নির্ধারিত কিছু পণ্য বিক্রি হয়। তবে বেশির ভাগই ভারতীয় পণ্য। ভারত চাইলে তাদের বাজারে আমাদের কিছু পণ্য প্রবেশে উদারতা দেখাতে পারে। অন্তত নির্ধারিত এলাকায় এ নিয়ে পরীক্ষা চালাতে পারে। সফলতা এলে পরে একটা বাজার তৈরি করা যায়। ’

রজিত মিত্তার বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়ার জন্য এটা সবচেয়ে উপযোগী সময়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসার পর থেকে একটা অসাধারণ সম্পর্কের সূচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি এসেছে। এটা আগামীতে দুই দেশের মধ্যে একটি সুদূরপ্রসারী বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ মূহূর্তে সমন্বিত ট্রানজিট ব্যবস্থা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্যের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক না থাকলে ভারসাম্য আসে না। ভারসাম্যের অভাবে অনেক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। তাই দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে।

রামপাল সম্পর্কে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। অনেকে এটাকে রাজনৈতিক ও টেকনিক্যাল দিক দিয়ে বিবেচনা করেন। দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের দরকার আছে। আর দুঃখজনকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সুন্দরবনকে নির্বাচন করা হয়েছে। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। ’ তিনি বলেন, ভারতের সহযোগিতায় বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এটা ভারতবিরোধিতা নয়। এখানে সুন্দরবনই প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

তবে রামপালে বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে বির্তকের অবকাশ দেখছেন না ভারতের দি এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের ফেলো নিত্য নন্দ। তিনি বলেন, এটা স্থানীয় পরিবেশের তেমন কোনো ক্ষতি করবে না।   এটা যৌক্তিকভাবেই নিরাপদ। রামপাল সুন্দরবন থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই।


মন্তব্য