kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কানাডায় গ্লোবাল ফান্ড সম্মেলন

তিন সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তিন সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মারাত্মক তিন সংক্রামক ব্যাধি—এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে একত্রে কাজ করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কানাডার মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠিত ফিফথ গ্লোবাল ফান্ড (জিএফ) রিপ্লেনিসমেন্ট কনফারেন্সের উদ্বোধনী অধিবেশনে গত শুক্রবার তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—এইডস, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধযোগ্য এবং এসব রোগ চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন অঙ্গীকার, সংকল্প ও সংহতি। একত্রে কাজ করার এই অঙ্গীকার এসব ব্যাধির অবসান ঘটাতে পারে। ’ দেশের সব মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের প্রচেষ্টায় বৈশ্বিক তহবিলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অবকাঠামো, স্বাস্থ্যপণ্য ও সেবায় বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে আমার সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টায় আমরা বৈশ্বিক তহবিলের সহায়তা আশা করছি। ’

এইডস, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কিত কার্যক্রমের জন্য প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে গ্লোবাল ফান্ড। এ তহবিলের সহায়তা কার্যক্রম গোটা বিশ্বব্যাপী, এর মূল লক্ষ্য বিশ্বের সেই সব এলাকা, যেখানে এসব রোগব্যাধি বড় বোঝা হয়ে আছে। সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সল, টোগোর প্রেসিডেন্ট ফুয়ারে গ্রেন্সিভ, গ্লোবাল তহবিলের নির্বাহী পরিচালক মার্ক আর দাইবাল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা লা ফ্রাংকোফনির মহাসচিব মিখায়েল জেন সম্মেলনে বক্তব্য দেন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও লা ফ্রাংকোফনি-বিষয়ক কানাডীয় মন্ত্রী ম্যারেই ক্লদি বিবেউ অধিবেশন পরিচালনা করেন।

উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ দিক’ হিসেবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সমাজের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে দারিদ্র্য দূরীকরণের ওপর, খাদ্য নিরাপত্তা, এমনকি জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা...সুষম উন্নয়ন, সব চ্যালেঞ্জ নির্ভর করে সক্ষম ও টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব আজ উন্নয়ন প্রত্যাশার এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দারিদ্র্যমুক্ত সবল একটি বিশ্ব সমাজ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০১৫ সালে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। ’ তিনি বলেন, সক্ষমতা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত লক্ষ্যসহ এমডিজির লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। গত দুই দশকে মাতৃমৃত্যুর হার ৭০ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের মৃত্যুহার ৬৬ শতাংশ কমেছে। গত দেড় দশকে নবজাতকের মৃত্যুহার ৬২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাঁর সরকারের কার্যকর নীতি ও বাস্তবসম্মত কার্যক্রম গ্রহণের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০২০ সাল নাগাদ ম্যালেরিয়া নির্মূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং গত দুই দশক ধরে এইচআইভি বা এইডস প্রাদুর্ভাবের নিম্নহার বজায় রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৪ সাল থেকে প্রায় ১.৯ মিলিয়ন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করেছি। এর মধ্যে ৯৪ শতাংশ রোগীর সফলভাবে চিকিৎসা করা হয়েছে। আমরা এই সাফল্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ’ বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তিনটি বিষয় চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, “আমার সরকার নারীর ক্ষমতায়নের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার শিক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছে। আমরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের উপবৃত্তি চালু করেছি। এর ফলে তাদের স্কুলে উপস্থিতির হারেই শুধু উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি, বাল্যবিবাহ এবং মা ও শিশু মৃত্যুহারও হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া সহিংসতার ফলে নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। তাই ‘আমরা নারীর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও বঞ্চনার ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছি। আমরা দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ১৬ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করেছি। এই ক্লিনিকগুলোর কর্মীদের অধিকাংশই নারী এবং এসব কেন্দ্র থেকে বিনা মূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। ”

‘শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে দক্ষিণ এশিয়ার স্তম্ভ’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার স্তম্ভ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও ফ্রাংকোফনি-বিষয়ক মন্ত্রী ম্যারেই ক্লদি বিবেউ। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন পরিচালনা করেন বিবেউ। প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বানের সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই, যিনি ‘নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার স্তম্ভ। ’

সম্মেলনের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার জিএফ রিপ্লেনিসমেন্ট কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ এর অন্যান্য কর্মসূচিতে যোগ দেন। অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ম্যারেই ক্লদি বিবেউ, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও কানাডার গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টন।

প্রধানমন্ত্রী পরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টনের যৌথ আমন্ত্রণে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বিকেলে তিনি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন আজ :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিফথ গ্লোবাল ফান্ড (জিএফ) রিপ্লেনিসমেন্ট কনফারেন্সের পর চার দিনের কানাডা সফর শেষে আজ রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকবেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের সাধারণ আলোচনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য দেবেন।


মন্তব্য