kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দক্ষিণখানে ধারাবাহিক খুন

খুনি ধরা পড়েনি ১০ দিনেও

এস এম আজাদ   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর দক্ষিণখানে একের পর এক মধ্যবয়সী গৃহকর্ত্রীকে খুন করার আগে সন্দেহভাজন সিরিয়াল কিলার প্রতিটি বাড়িতে একাধিকবার গেছে। বাড়ির ভেতরে-বাইরে রেকি (পর্যবেক্ষণ) করার পাশাপাশি আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেছে সেই আততায়ী যুবক।

তবে ভাড়াটিয়ার ভূমিকায় অভিনয় করা সেই খুনিকে কেউ সন্দেহই করেনি। হত্যাকাণ্ডের পরও স্পষ্ট করে কাউকে সন্দেহ করেনি স্বজনরা। ফলে তদন্তকারীরা খুনি হিসেবে পরিবার ও প্রতিবেশীদেরই সন্দেহ করছিল। চতুর্থ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশই সিরিয়াল কিলারের ব্যাপারে ধারণা পায়। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণখান এলাকার বাড়ির মালিকসহ এলাকাবাসীর অসচেতনতার সুযোগ নিয়েছে ভাড়াটিয়া বেশ নিয়ে আসা সিরিয়াল কিলার। ভাড়াটিয়াদের তথ্য ফরম পূরণসহ সতর্ক হতে বাড়ির মালিকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। চলছে উঠান বৈঠক। তবে সেসব নির্দেশনা মানছে না বেশির ভাগ বাড়ির মালিক। আবার বেশির ভাগ বাড়িতে নেই সিসিটিভি ক্যামেরা। ফলে খুনি  চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যায় পুলিশের পক্ষে। এদিকে গত ১০ দিনেও সিরিয়াল কিলারকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী আলামত পেয়েছে, ভাড়াটিয়া বেশে এক যুবক বাসা দেখার নাম করে এসে গত দেড় মাসে চারটি বাড়িতে একই কায়দায় হামলা চালায়। যেখানে তিন নারী নিহত হয়েছেন। আহত হলেও বেঁচে গেছেন একজন। তার হামলার শিকার চারজনই বাড়ির মালিকের স্ত্রী এবং মধ্যবয়সী। সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর গাওয়াইরের দক্ষিণপাড়ায় ওয়াহিদা আক্তার নামে এক নারীকে খুন করে ওই যুবক। পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছে আগের তিনটি ঘটনাও ঘটিয়েছে সে।

দক্ষিণখান থানার ওসি সৈয়দ লুত্ফর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে এলাকাবাসী সচেতন নয় বলেই এই খুনি ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা বারবার বলার পরও কেউ সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাচ্ছে না। ভাড়াটিয়াদের তথ্যও সঠিকভাবে রাখছে না বাড়িওয়ালারা। ’ ওসি লুত্ফর রহমান বলেন, ‘একজন অপরিচিত খুনি বাড়িতে এসে রেকি করে খুন করে গেছে। স্বজনরা কেউ কিছু বলতে পারেনি। প্রথম ঘটনার পর স্বজনরা বলল, ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে ঝামেলা, সে মারতে পারে। দ্বিতীয় ঘটনায় স্বজনরা বলল, এক ভাড়াটিয়ার সঙ্গে ঝগড়া ছিল। আমরা সেসব দিকে তদন্ত করে সময় নষ্ট করি। ’ ওসি বলেন, ‘ভাগ্যিস আমরা বুঝতে পেরেছি। আশা করি ওই খুনি ফের অপরাধ করার আগেই ধরা পড়বে। ’

দক্ষিণখান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম তোফাজ্জল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিরিয়াল কিলারের ঘটনাটি আমিও শুনেছি। এ ঘটনা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। আমরা সব সময়ই বাসা ভাড়া দেওয়ার ব্যাপারে মালিকদের সতর্ক থাকতে বলি। ’


মন্তব্য