kalerkantho


চট্টগ্রামে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঢল

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি শেষ। গত বৃহস্পতিবার থেকে আবার অফিস-আদালত খুলে গেছে। তবে এক দিন অফিস করে আবার দুই দিন ছুটি পেয়ে গেছেন চাকরিজীবীরা। কেউ কেউ এই এক দিন কর্মদিবসে ছুটি নিয়ে অবকাশের সময়টা আরো দীর্ঘায়িত করেছেন। সে কারণে চট্টগ্রামে এখনো ছুটির আমেজ রয়ে গেছে।

গতকাল শুক্রবারও বন্দরনগর ছিল অনেকটা ফাঁকা। তবে বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আজ শনিবারও ভিড় থাকতে পারে এসব বিনোদনকেন্দ্রে।

ঈদের দিন বিকেল থেকে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব বিনোদন ও পর্যটন স্পটে ভিড় করে ভ্রমণকারীরা। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে মানুষের ঢল নামে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরের পাশে কর্ণফুলী নদীর তীরে নেভাল সড়কেও ছিল হাজার হাজার পর্যটক।

ঢাকার হাতির ঝিলের আদলে করা কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর পাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায়ও দেখা গেছে মানুষের স্রোত। দেশীয় বিনোদনপ্রেমীদের পাশাপাশি ফয়’স লেকে বেশ কিছু বিদেশি পর্যটককেও দেখা গেছে সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফয়’স লেক ও সি ওয়ার্ল্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কে গতকাল সকাল থেকে আসতে শুরু করে মানুষ। সকাল ১১টার দিকে সেখানে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। কেউ ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চেপে লেক ভ্রমণ করে। কেউ পার্কের রাইডে শিশুদের সঙ্গী হয়।

ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ডে জলকেলিতে মেতে উঠেছিল তরুণ-তরুণীরা। ঈদের লম্বা ছুটি কাটাতে বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকরা এসে উঠেছে ফয়’স লেক রিসোর্টে।

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে আসা একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা রহিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের পরিবারের আটজন এসেছি এখানে। আমি গত বৃহস্পতিবারও ছুটি নিয়েছি। তিন দিন ধরে আমরা চট্টগ্রামে। আজকে রাতে চলে যাব। এবার চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরেছি। ভালো লাগছে। ’

ফেনীর ছাগলনাইয়া থেকে বাবার সঙ্গে বেড়াতে আসা স্কুল ছাত্রী শারমিন আক্তার বলে, ‘চট্টগ্রামে প্রথম এলাম। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও নেভাল এলাকা ঘোরার পর আজ ফয়’স লেকে এলাম। অনেক রাইডে চড়েছি। লেকে বোটে করে ঘুরেছি। খুব সুন্দর। ’

এদিকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে ঈদের দিন বিকেল থেকে মানুষের ঢল নামে। গতকাল সকাল থেকে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ছাড়াও বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ভিড় জমায় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। সৈকতের পাশাপাশি কর্ণফুলীর ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায়ও ভিড় ছিল ভ্রমণপিপাসুদের।

ওই এলাকার বাসিন্দা জাবেদ হোসেন বলেন, ‘পতেঙ্গা ও নেভালে প্রায় দেড় শ ছোট-বড় খাবারের দোকান আছে। কোনো দোকান খালি নেই। ’ তিনি বলেন, রীতিমতো সারিতে দাঁড়িয়ে থেকে দোকানে ঢুকতে হচ্ছে। রোজার ঈদের চেয়ে এবার দর্শনার্থী অনেক বেশি বলে মনে করেন তিনি।

আনোয়ারায় পারকি সমুদ্রসৈকতেও মানুষের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস ভাড়া করে এসেছে লোকজন। এ ছাড়া ভাটিয়ারি হ্রদ ও সানসেট পয়েন্ট, চট্টগ্রাম সেনানিবাস এলাকায় ক্যাফে টোয়েন্টিফোরে ঢু মেরেছে লোকজন। আবার অনেকে ওয়েস্টার্ন ক্রুজে চড়ে কর্ণফুলীর মোহনাও ঘুরে দেখেছে।

নগরের প্রজাপতি পার্ক, অভয়মিত্র ঘাট, কাজীর দেউড়ি ও আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের শিশুপার্ক, বহদ্দারহাট স্বাধীনতা পার্ক, ওয়ার সিমেট্রি, সিআরবি পাহাড়, কাট্টলি সমুদ্রসৈকতেও ভিড় ছিল।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালনাধীন স্বাধীনতা পার্কের পরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘স্বাধীনতা পার্কে ঈদের দিন থেকেই প্রচুর মানুষ আসছে। ’ তিনি জানান, পার্কের ২৪ তলা উঁচু ভবনের রিভলবিং (ঘূর্ণায়মান) টাওয়ার থেকে কর্ণফুলী নদী, বঙ্গোপসাগরসহ পুরো চট্টগ্রাম শহর দেখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পুরো চট্টগ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছে দর্শনার্থীরা।

নগরের ডিসি হিল, উত্তর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, মিরসরাইয়ের নয়নাভিরাম মহামায়া বিনোদনকেন্দ্র, বাঁশখালী ইকোপার্কসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ লোকসমাগম ছিল।


মন্তব্য