kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভাঙছে কপোতাক্ষ দেখার কেউ নেই!

নিখিল ভদ্র, পাইকগাছা (খুলনা) থেকে ফিরে   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভাঙছে কপোতাক্ষ দেখার কেউ নেই!

খুলনার পাইকগাছার কপোতাক্ষ নদে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পাইকগাছার আগড়ঘাটা বাজার হুমকির মুখে পড়েছে।

ইতিমধ্যে ঘরবাড়িসহ হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কিন্তু নদের ভাঙন রোধে এখনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ভাঙন ঠেকাতে কেবল স্থানীয় লোকজন প্রাণপণ চেষ্টা করছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পাইকগাছার সঙ্গে খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, একসময়ে কপোতাক্ষ নদে প্রচণ্ড ভাঙন দেখা দিত। কিন্তু নদীর নাব্যতা কমতে থাকায় নদীর দুই ধারে হাজারো বিঘা খাসজমি জেগে ওঠে। এর পর থেকে পাইকগাছাসহ সাতক্ষীরার তালা, পাটকেলঘাটা এবং যশোরের কেশবপুর, মণিরামপুরসহ নদের দুই পারে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদের গভীরতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২৬২ কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়। পাঁচ বছর ধরে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ চললেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, আগড়ঘাটা বাজারসংলগ্ন ১০০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে কাঁচাবাজারের বেশ কিছু দোকান নদীগর্ভে চলে গেছে। একাধিক ভবন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন খুলনা-পাইকগাছা সড়ক থেকে মাত্র কয়েকগজ দূরে আছে। বিষয়টি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ইতিমধ্যে ভাঙন ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় লোকজন। আগড়ঘাটা বাজার কমিটি, বিনোদবিহারী স্পোর্টিং ক্লাব ও কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় ভাঙন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রশিদুজ্জামান বলেন, ‘সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয় লোকজন বাঁশ, ইট ও বালি দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। তবে তাতে তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না।  

কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান মো. কওছার আলী জোয়ার্দার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনেকেই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ভাঙন রোধে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তারা বলে, ‘বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। ’ আর সড়ক বিভাগ বলে, ‘এটা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ। ’

তবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ-প্রকৌশল দপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ মজুমদার জানান, ভাঙনকবলিত এলাকাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের আওতায়। ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই বিষয়টি যশোর পাউবো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।


মন্তব্য