kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রক্ত আর চুড়ির রং একাকার

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রক্ত আর চুড়ির রং একাকার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বরযাত্রী বহন করা মাইক্রোবাস (বাঁয়ে); মাইক্রোবাসের ভেতর পড়ে আছে রক্তমাখা চুড়িসহ বিয়ের সরঞ্জাম। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আবু সুফিয়ান কনের জন্য কিনেছিলেন চুড়ি। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁরা রওনাও হয়েছিলেন কনের বাড়ির দিকে।

কিন্তু মুহূর্তেই সব কিছু যেন এলোমেলো হয়ে গেল। চুড়ি আর রক্তের রং একাকার হয়ে গেল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়পুর উপজেলার শশইপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে বর ও তাঁর বাবাসহ আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। হতাহতদের যখন দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস থেকে বের করে আনা হচ্ছিল তখন গাড়িতে রক্তে মাখামাখি হয়ে পড়ে ছিল চুড়ির গোছা। তখন পাশ দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছিল রক্ত।

দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি রয়েছে সরাইলের খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে। অন্যদিকে বিকেলের দিকে আটজনের লাশ নিয়ে রওনা হয়ে গেছে স্বজনরা। সঙ্গে নিয়ে গেছে রক্তমাখা সেই চুড়িগুলোও।

নিহতদের সবার বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রূপসপুর গ্রামে। ওই গ্রামের মো. মুজাহিদ নামের এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আমারও দুই নিকটাত্মীয় মারা গেছেন। ঘটনা জানার পর থেকে নিহতদের বাড়ি তথা পুরো গ্রামে চলছে মাতম। প্রতিবেশী ও আশপাশের শত শত মানুষ এসে শোকার্ত পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ আবার লাশ দাফনের ব্যবস্থা করছে। ’

মুজাহিদসহ একাধিক স্বজন জানান, সুফিয়ানের বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। বাবা-ছেলে মিলে বিয়ের জন্য কেনাকাটা করেছিলেন এক দিন আগে। ঢাকার মহাখালীতে মাওলানা মো. হানিফের মেয়ের সঙ্গে সুফিয়ানের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সকাল ৭টার দিকে বরযাত্রীদের নিয়ে মাইক্রোবাস রওনা হয়।

কনের বাবা মাওলানা হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন তাঁরা। তাঁদের সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চুড়িসহ গাড়ির ভেতরে থাকা রক্তমাখা কিছু জিনিস আমরা পরে দেখতে পাই। লাশের সঙ্গে এসব জিনিস স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ’


মন্তব্য