kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারতে চিকনগুনিয়া নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

তৌফিক মারুফ   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভারতে চিকনগুনিয়া নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

ভারতের দিল্লিসহ আশপাশের একাধিক এলাকায় এডিস মশাবাহিত চিকনগুনিয়ার প্রকোপে ১১ জনের মৃত্যু ও এক হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এ খবরে সর্তক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশে আগে থেকেই চিকনগুনিয়ার বিস্তার রয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সর্বশেষ সমীক্ষা অনুসারে রাজধানীর প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে ভারতে যেভাবে চিকনগুনিয়ায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তার কারণ নিয়ে সংশয়ে আছেন বাংলাদেশের গবেষকরা। তাঁদের মতে, শুধু চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের সরাসরি মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। আর চিকনগুনিয়া নিয়ে খুব ভয়ের কারণও নেই। যদিও নারী এডিস মশা থেকে এটার বিস্তার, তাই সব সময়ই সচেতন থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, চিকনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, সর্দি, বমিবমিভাব, হাত-পা ও আঙুলের গিটে ব্যথা, ফোসকা পড়া ছাড়াও শরীর বেঁকে যেতে পারে। এ ভাইরাস মশা থেকে মানুষের শরীরে আসে। আবার আক্রান্ত মানুষকে কামড় দিলে মশাও আক্রান্ত হয় এবং বাহক হিসেবে আবার মানবদেহে প্রবেশ করে। সাধারণত মশায় কামড়ানোর পাঁচ দিন পর থেকে শরীরে লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে। বাংলাদেশে এতে আক্রান্তদের মধ্যে কারো মৃত্যু না হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক রোগীর শরীর বেঁকে যাওয়ার নজির রয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী স্যাবরিনা ফ্লোরা বলেন, ‘চিকনগুনিয়ার প্রকোপ আমাদের দেশে আগেও ছিল। তাই এ নিয়ে আমাদের সর্তকতামূলক ব্যবস্থাপনা আগে থেকেই রয়েছে। এবার ভারতের ঘটনার দিকেও আমরা কয়েক দিন ধরে নজর রাখছি। আমাদের রুটিন সার্ভিল্যান্স চলছে। এবার এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও থেকে চিকিনগুনিয়ার আউটব্রেকের খবর এখনো পাইনি। ’

ওই পরিচালক বলেন, ‘ভারতে চিকনগুনিয়ার প্রকোপের কারণে আমাদের বিদ্যমান ব্যবস্থাপনাকে আমরা আগের চেয়ে আরো সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা এ বিষয়ে সর্তক আছি। ’

আইইডিসিআর সূত্র জানায়, সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রোটেকশন ইউনিটের সহায়তায় ২০১৩ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর সূত্রাপুর, ধানমণ্ডি, মতিঝিল ও মহাখালী এলাকার প্রতি ১০ বাড়ি থেকে একজন করে মোট ৬২১ ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৬০১ জনের নমুনা পরীক্ষাযোগ্য ছিল। ওই সমীক্ষার ফলাফল অনুসারে ৬০১ জনের মধ্যে ৩৩ শতাংশ বা ২০৭ জনের রক্তেই চিনকগুনিয়া ভাইরাস শনাক্ত হয়, যা মোট নমুনার ৩৩ শতাংশ। তাদের মধ্যে ১৬ জন একাধিকবার এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

আইইডিসিআরের গবেষকরা জানান, ২০০৫ সালে ভারতে চিকনগুনিয়ার ব্যাপক প্রকোপ দেখা দিলে বাংলাদেশে এক দফা এ সমীক্ষা চালানো হয়। যদিও তখন দেশে এর কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। দেশে চিকনগুনিয়ার প্রথম রোগী ধরা পড়ে ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে। পরে ২০১১ সালে আবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঢাকার দোহারে এর প্রকোপ দেখা দেয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে ঢাকার দোহারে ২৪৫ জনের রক্ত সংগ্রহ করে ৫২ জনের রক্ত পরীক্ষা করে ৩১ জনের দেহে চিকনগুনিয়ার ভাইরাস পাওয়া যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ১২ জনের দেহে চিকনগুনিয়া শনাক্ত হয়। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ওই সময় তিনজন রোগীর দেহে চিকনগুনিয়া শনাক্ত করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান আইসিটি, এলাইজা ও আরটি-পিসিআর প্রযুক্তির সাহায্যেই এ চিকনগুনিয়া ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কেবল আলাদা কিছু কিটস লাগে। যেটা বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইইডিসিআরে রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোনো হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণাগার থেকে এ রোগ শনাক্ত করা যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতে চিনগুনিয়ার ব্যাপক বিস্তারের খবরে আমরা সর্তক অবস্থান নিয়েছি। দেশের কোথাও কোনো প্রকোপের খবর পেলেই আমাদের টিম কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্যও আমাদের কাজ চলছে। ’


মন্তব্য