kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিখোঁজদের তালিকা

জঙ্গি দুই ভাইয়ের ছবি ফেসবুকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গি দুই ভাইয়ের ছবি ফেসবুকে

ইব্রাহিম হাসান খানের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করা সেই ছবি। ইনসেটে নিখোঁজ তালিকায় থাকা দুই ভাই। ছবি : সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিখোঁজ তালিকায় থাকা ইব্রাহিম হাসান খান ও জুনায়েদ হাসান খান নামের দুই ভাইকে ফেসবুকে দেওয়া একটি ছবিতে দেখা গেছে। ইব্রাহিম দীর্ঘদিন পর বুধবার রাতে ফেসবুকে তিনজনের একটি ছবি প্রকাশ করেন।

পরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আবার ছবিটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এরই মধ্যে ফেসবুকের ওই ছবি অনেকের কাছে ছড়িয়ে পড়েছে।

ছবিতে দেখা গেছে, দুই ভাই ও অপরিচিত একজন কালো পাঞ্জাবি ও মাথায় পাগড়ি পরে হাতে পানীয়র গ্লাস নিয়ে বসে আছেন। তাঁদের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের মতো একটি পতাকা ঝুলছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা কোথা থেকে ছবিটি আপলোড করেছে, কতক্ষণ ফেসবুকে ছিল—এসব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছবিটি কোথায় তোলা হয়েছে তাও জানার চেষ্টা চলছে। ’

গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিখোঁজদের প্রথম যে তালিকা প্রকাশ করে তাতে ১০ যুবকের মধ্যে ইব্রাহিম হাসান খান ও জুনায়েদ হোসেন খানের নাম ছিল। তাঁদের বাসা রাজধানীর বারিধারা এলাকায়। ওই বাসায় একাধিকবার গিয়েও পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরা জানায়, বছরখানেক আগে ইব্রাহিম-জুনায়েদের বাবা মুনির হাসান খান পরিবারের সবাইকে নিয়ে সৌদি আরবে চলে গেছেন।

ইব্রাহিম হাসান খান বুধবার রাতে ফেসবুকে তাঁর ‘প্রোফাইল পিকচার’ হিসেবে তিনজনের ছবিটি প্রকাশ করেন। এতে ইব্রাহিমকে কালো রোদচশমা পরে হাসিমুখে মাঝে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর ডান পাশে বসে থাকা যুবক জুনায়েদ হাসান খান বলে পরিচিতজনরা শনাক্ত করে। তবে বাঁ পাশে বসে থাকা যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুই ভাইয়ের মুখে দাড়ি-গোঁফ ও তৃতীয় জনের মুখে শুধু দাড়ি দেখা যায়। ইব্রাহিমের পাশে ও সামনে টেবিলের মতো পাটাতনে রাখা অস্ত্রের একাংশও ছবিতে দেখা গেছে।

গতকাল সন্ধ্যায় ইব্রাহিমের ফেসবুক টাইমলাইনে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর প্রোফাইল পিকচারের জায়গাটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। সর্বশেষ পোস্টটি গত বছরের ১৩ জুলাই করা। সেটি ছিল সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ছবি। ওই ছবির সঙ্গে নিজের মন্তব্যও জুড়ে দিয়েছিলেন ইব্রাহিম।

ইব্রাহিমের পোস্টগুলোর বেশির ভাগই ইসলামবিষয়ক এবং বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর ছবি। গত বছরের ১২ জুন পোস্ট করা কয়েকটি ছবিতে তাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে বসে থাকতে দেখা যায়। এই রেস্তোরাঁতেই গত ১ জুলাই জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে। একাধিক ছবিতে ইব্রাহিমকে সিগারেট হাতেও দেখা যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, জুনায়েদ ও ইব্রাহিমকে খুঁজে বের করতে কাজ করছে কয়েকটি সংস্থা। এরই মধ্যে নব্য জেএমবির সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। জুনায়েদ নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা। তিনি তামিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। দুই ভাইয়ের একজন দেশে এবং অন্যজন ভারতে আছেন বলে সম্প্রতি একটি সূত্র জানিয়েছিল। তবে পরে আরেক সূত্র বলছে, একজন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে চলে গেছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন তদন্তকারীরা।


মন্তব্য