kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রংপুর জিলা স্কুল

পুনর্মিলনীতে প্রাণের উচ্ছ্বাস

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পুনর্মিলনীতে প্রাণের উচ্ছ্বাস

প্রাণের উচ্ছ্বাসে শেষ হলো রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন ও নবীন শিক্ষার্থীদের দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী। নবীন-প্রবীণদের পদচারণ আর স্মৃতিময় কথামালায় মুখরিত হয়ে ওঠে স্কুল প্রাঙ্গণ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় অনুষ্ঠান। ১৯৪৫ থেকে ২০১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মঞ্চে উঠে তাদের স্কুল জীবনের বর্ণাঢ্য স্মৃতিচারণা করেন। পরে বিকেলে ঢাকা থেকে আসা ব্যান্ড দল অর্থহীন ও লালন দলের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

ঈদের পরদিন গত বুধবার দুপুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। শুরুতেই ছিল কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠ এবং শোক প্রস্তাব পাঠ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাশেদ মাহবুব রব্বান, সাত্ত্বিক শাহ আল মারুফ। সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত পুনর্মিলনী উদ্যাপন পর্ষদের আহ্বায়ক ডা. জাবেদ আখতার। স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্াপন পর্ষদের সদস্যসচিব এ কে এম তহমিদুর রহমান তুহিন। আলোচনা পর্বের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আনিসুল হক।

আলোচনা পর্বে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ পুনর্মিলনীকে ঘিরে যে প্রাণের স্পন্দন তৈরি হয়েছে, সেটি আমাকেও স্পর্শ করেছে। এই জিলা স্কুলে পড়ালেখা করতে না পারলেও বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠে একবার হকি খেলেছি। ’ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বাষট্টি থেকে চৌষট্টি সাল পর্যন্ত এইচএসসি পড়েছি রংপুরের কারমাইকেল কলেজে। এ কারণে রংপুরের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ’

স্কুলের ছাত্র এবং তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘ভালো মানুষ হতে হলে শুধু জিপিএ ৫ পেলে চলবে না। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে নানা বিষয়ের বই পড়তে হবে। বইয়ের বাইরে ফুল আছে, নদী আছে, প্রকৃতি আছে—সে সম্পর্কেও জানতে হবে। জ্ঞানের চর্চা করতে হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সন্তানই তো জঙ্গি হয়েছে, আমরা এই সন্তান চাই না। আমরা প্রকৃত মানুষ হতে চাই। ’

অনুষ্ঠানে জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ভাষাসৈনিক ও বিশিষ্ট রাজনীতিক মোহাম্মদ আফজালকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্কুলের প্রাক্তন চার শিক্ষার্থী ভাষাসৈনিক ও ২০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা পাওয়া চার ভাষাসৈনিক হলেন মোহাম্মদ আফজাল, সুফী মোতাহার হোসেন, মীর আনিসুল হক পেয়ারা ও আবদুল গনি সরকার।

২০ জন মুক্তিযোদ্ধা হলেন মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান (মরণোত্তর), শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, সদরুল আলম দুলু, আব্দুল আউয়াল তালুদকার, রুহুল আজিজ, মোজাফফর হোসেন চাঁদ, রেজাউল করিম জুন্নুর, আব্দুল রশিদ আলমগীর, ফজলে রাব্বি বাবু, আবুল কালাম আজাদ, আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টু, হারুন-অর-রশীদ (মরণোত্তর), আলী আশরাফ, জিয়াউল হক জিয়া, আমিনুল ইসলাম, মাহবুবুল আলম সাজু, সামসুল আলম, আমিনুল হক ও মাসুদার রহমান স্বপন। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফুল হক।

পরে মাঠে বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক এমপিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য