kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘বাংলাদেশিদের আগমনী ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি শ্রীলঙ্কা’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘বাংলাদেশিদের আগমনী ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি শ্রীলঙ্কা’

বাংলাদেশিদের ‘আগমনী ভিসা’ (ভিসা অন অ্যারাইভাল) বন্ধ করা নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে শ্রীলঙ্কার সরকার বলেছে, ‘আগমনী ভিসা’ বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। শ্রীলঙ্কার অভিবাসন দপ্তরপ্রধান নিজের সিদ্ধান্তে এমন পদক্ষেপ নিলেও সেটি বাতিল করে পুরনো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হর্ষ ডি সিলভা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।

এর আগে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশিদের জন্য ‘আগমনী ভিসা’ (ভিসা অন অ্যারাইভাল) সুবিধা দেওয়া বন্ধ করার বিষয়ে বাংলাদেশকে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় বাংলাদেশও শ্রীলঙ্কানদের জন্য আগমনী ভিসা সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা এ সুবিধা বন্ধ করে। এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার ঢাকায় শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনারকে ডেকে এর ব্যাখ্যা চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। শ্রীলঙ্কা সরকার বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আগে থেকে না জানানোয় এবং শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার সদুত্তর দিতে না পারায় সেদিনই বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কান নাগরিকদের জন্য আগমনী ভিসা বন্ধ করে দেয়।

শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার ইয়াসুজা গুনাসেকারা গত রবিবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, আগমনী ভিসা বন্ধের বিষয়টি তিনি জানেন না। শ্রীলঙ্কা সরকারের কাছ থেকে জেনে তিনি বিষয়টি বাংলাদেশকে অবহিত করবেন। কিন্তু গতকাল বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশকে কিছু জানানো হয়নি।

তবে গত সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলার খবরে শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হর্ষ ডি সিলভাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের জন্য ‘আগমনী ভিসা’ বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবিসির সিনহলা সার্ভিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ডি সিলভা বলেছেন, ‘বাংলাদেশিদের আগমনী ভিসা না দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তাঁর সরকার নেয়নি। ’

ড. সিলভা বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রধান। তাঁর এ সিদ্ধান্তে আমরা অসন্তুষ্ট। আমরা ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে এর সুরাহা করতে বলেছি। তিনি এতে রাজি হয়েছেন। আমি আশা করছি বিষয়টির একটা সুরাহা ইতিমধ্যে করা হয়েছে। ’

শ্রীলঙ্কার পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে বাংলাদেশও যে শ্রীলঙ্কান নাগরিকদের আগমনী ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে,  সে প্রসঙ্গে ড. হর্ষ ডি সিলভা বলেন, ‘হ্যাঁ, বাংলাদেশও একই পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু একটা দেশের একজন ব্যক্তি যখন ভুল করেন, তার মানে এই নয় যে সে দেশের সব মানুষ একই রকম। ’

ড. সিলভা বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। কাজেই আমি অভিবাসন দপ্তরকে বলব, তারা যেন এ রকম কাণ্ড আর না করে। এটা ছিল একটা ভুল। আমরা কূটনৈতিকভাবে বিষয়টির সুরাহা করছি। ’

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা সব শ্রেণির ভ্রমণকারীর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ‘ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ)’ ব্যবস্থা চালু করে। এর আওতায় শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে আগ্রহীদের অনলাইনে ভিসার জন্য আবেদন করে এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কান অভিবাসন দপ্তরের ফিরতি বার্তার প্রিন্ট কপি নিয়ে অভিবাসন কেন্দ্রে দেখাতে হয়। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কান হাইকমিশন থেকেও ভিসা ইস্যু করা হয়।

সেগুলোর বাইরে ১৯৮০ সালের দ্বিপক্ষীয় একটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা একে অন্যের দেশে আগমনী ভিসা পেয়ে আসছেন। জানা গেছে, এবার বাংলাদেশিদের আগমনী ভিসা না পাওয়ার তথ্যটি আসে একটি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে। ইটিএতে আবেদন করে যাননি এমন কয়েকজন যাত্রীকে গত ৭ সেপ্টেম্বরের পর শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

গত সন্ধ্যায় শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে দেশটির গণমাধ্যম সিলন ডেইলি নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অভিবাসন দপ্তরের দুই কর্মকর্তার ভিন্ন বক্তব্য উঠে এসেছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অভিবাসন দপ্তরের একজন কর্মকর্তা ভিসা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনারের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার পর আরেক কর্মকর্তা আগমনী ভিসা বন্ধের বিষয়টি অস্বীকার করেন।


মন্তব্য